পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যময় রত্নভান্ডারে অলঙ্কারের ছড়াছড়ি! তালিকা তৈরির দ্বিতীয় পর্ব শুরু

Published on:

Published on:

Mysterious Treasury of Jagannath Temple Puri.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পুরীর জগন্নাথ মন্দির (Jagannath Temple Puri), ভক্তদের চোখে জীবন্ত ঈশ্বরের আবাসস্থল। এখানে প্রতিনিয়ত ঘটে এমন সব অলৌকিক ঘটনা, যা মানুষের যুক্তি-বুদ্ধির সীমা ছাড়িয়ে যায়। এই মন্দিরের দেবতা জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীকে ঘিরে অসংখ্য বিশ্বাস ও ভক্তির কাহিনি যুগে যুগে মানুষের মনে ভক্তির শিখা জ্বেলে রেখেছে।  তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই ধর্মনগরীর আরেকটি বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যময় রত্ন ভাণ্ডার। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর এই ভাণ্ডারের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে। বহু যুগ ধরে সযত্নে রক্ষিত এই গুপ্তধনের প্রকৃত পরিমাণ ও মূল্য জানার অপেক্ষায় রয়েছেন সকলেই।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের (Jagannath Temple Puri) রহস্যময় রত্নভান্ডারে অলঙ্কারের ছড়াছড়ি

রত্ন ভাণ্ডার শুধু দেবতার অলঙ্কারের ভাণ্ডার নয়, এটি ইতিহাস, বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের এক অমূল্য সংরক্ষণাগার। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে বিভিন্ন রাজাদের দান, পাশাপাশি অসংখ্য ভক্তের অর্ঘ্য। শেষবার এই রত্নগুলির তালিকা তৈরি হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। তারপর প্রায় ৪৮ বছর কেটে গিয়েছে, কিন্তু ভাণ্ডারের ভিতরে কী আছে, তা নিয়ে রহস্য থেকেই গিয়েছিল। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ভাণ্ডার যেন এক অজানা অধ্যায় হয়ে উঠেছিল।

আরও পড়ুন: IAS অফিসার হওয়ার জন্য ছাড়েন ডাক্তারি! আয়নার মাধ্যমে প্রস্তুতি সেরে UPSC-তে সফল অপরাজিতা

মন্দির প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার থেকে রত্ন ভাণ্ডারের তালিকা তৈরির দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে, যা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। প্রথম দিনেই প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে গণনার কাজ চলে। রত্ন ভাণ্ডার কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি বিশ্বনাথ রথ এবং শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসনের প্রধান প্রশাসক অরবিন্দ পধি জানিয়েছেন, ৯, ১০ ও ১১ এপ্রিলের পাশাপাশি ১৩ এপ্রিল এবং ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে। দীর্ঘ ৪৮ বছর পর এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি অলঙ্কারের ছবি তোলা, ভিডিওগ্রাফি এবং ৩ডি ম্যাপিং করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতের জন্য ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ করা যায়। তবে নিরাপত্তার কারণে রত্ন ভাণ্ডারে প্রবেশাধিকার অত্যন্ত সীমিত রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র নির্বাচিত সেবক, রত্ন বিশেষজ্ঞ, স্বর্ণকার এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদেরই সেখানে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি বিশ্বনাথ রথ এবং প্রশাসক অরবিন্দ পধি।

Mysterious Treasury of Jagannath Temple Puri.

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে বাজবে Tata Motors-এর ডঙ্কা! নেওয়া হচ্ছে এমন পদক্ষেপ, জানলে হবেন ‘থ’

১৯৭৮ সালের তালিকা অনুযায়ী, রত্ন ভাণ্ডারে মোট ১১১টি অলঙ্কার রয়েছে, যার মধ্যে ৭৮টি সোনার এবং ৩৩টি রুপোর। প্রতিটি গয়নার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক একটি ইতিহাস ও বিশ্বাসের গল্প। এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন পুরীর গজপতি মহারাজ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই কাজের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো নয়, বরং নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রত্ন ভাণ্ডারের এই পুনর্গণনা শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, এটি ইতিহাস ও বিশ্বাসের এক নতুন অধ্যায় উন্মোচনের দিকেও বড় পদক্ষেপ।