বাংলাহান্ট ডেস্ক: শাহরুখ খানের ‘ওম শান্তি ওম’ সিনেমার বিখ্যাত ডায়ালগ টা মনে আছে! যদি কোনও জিনিসকে তুমি মন থেকে চাও পুরো দুনিয়া তোমায় সেটা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে! এই কথারই জীবন্ত উদাহরণ হরিয়ানার রোহতকের মেয়ে অপরাজিতা সিংয়ের সাফল্যের কাহিনি (Success Story)। ডাক্তারির পেশায় স্থির ভবিষ্যৎ থাকা সত্ত্বেও তিনি বেছে নিয়েছিলেন সিভিল সার্ভিসের কঠিন পথ। এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে করতেই তাঁর মনে জন্ম নেয় সমাজের জন্য বড় কিছু কাজ করার ইচ্ছা। সেই ইচ্ছাই তাঁকে আইএএস হওয়ার পথে এগিয়ে দেয়।
অপরাজিতা সিংয়ের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
অপরাজিতা একটি চিকিৎসক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে তাঁর বাবা-মা এবং দুই ভাই-ই চিকিৎসা ক্ষেত্রে যুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই ডাক্তার হওয়াটাই ছিল তাঁর জন্য সবচেয়ে সহজ এবং প্রত্যাশিত পথ। কিন্তু নিজের লক্ষ্য ও স্বপ্নের প্রতি অটল থেকে তিনি সেই পরিচিত পথ ছেড়ে অন্য এক চ্যালেঞ্জিং পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। ছোটবেলা থেকেই সাধারণ পরিবেশে বড় হওয়া অপরাজিতা নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে সবসময় সচেতন ছিলেন।
আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরেও হবে পরিবর্তন! হলদিয়ার সভা থেকে বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর
রোহতকে দাদু-দিদার কাছে থেকে স্কুলশিক্ষা শেষ করার পর তিনি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার সময় তাঁর হাতের লেখা খারাপ হওয়ায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। চিকিৎসা পেশায় যোগ দেওয়ার পর দীর্ঘ আট ঘণ্টার শিফটে কাজ করেও তাঁর মনে আইএএস হওয়ার স্বপ্ন জিইয়ে ছিল।
অবশেষে তিনি চিকিৎসকের পেশা ছেড়ে পুরোপুরি ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেন। ২০১৭ সালে প্রথমবার পরীক্ষায় বসেও ব্যর্থ হন তিনি। কিন্তু এই ব্যর্থতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং নিজের প্রস্তুতি পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে আরও পরিশ্রমী হয়ে ওঠেন। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেই তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সারা ভারতে ৮২ র্যাঙ্ক অর্জন করেন।

আরও পড়ুন:যুদ্ধবিরতির ফলে লাভবান আম্বানি-আদানি! লাফিয়ে বাড়ল সম্পদের পরিমাণ, ক্ষতির সম্মুখীন ইলন মাস্ক
ইন্টারভিউতে ভালো ফলের পেছনে তাঁর একটি বিশেষ কৌশল ছিল ‘মিরর প্র্যাকটিস’। তিনি নিয়মিত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার অনুশীলন করতেন, যা তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং শরীরী ভাষা উন্নত করতে সাহায্য করে। এর ফলেই ইন্টারভিউতে তিনি ২০১ নম্বর পান। তাঁর এই সাফল্যের গল্প (Success Story) প্রমাণ করে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক প্রস্তুতি থাকলে কোনও স্বপ্নই অধরা থাকে না।












