শুল্কের প্রসঙ্গে কমবে উদ্বেগ? ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা প্রধানমন্ত্রী মোদীর! কোন কোন বিষয়ে হল আলোচনা?

Published on:

Published on:

Narendra Modi-Donald Trump hold phone conversation amidst tariff war.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে মার্কিন চাপ এবং ভারত-আমেরিকা (India-America) বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে টানাপোড়েনের মধ্যেই বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Narendra Modi-Donald Trump) সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-সহ একাধিক বিষয় উঠে এসেছে। ফোনালাপের পর মোদি নিজেই সমাজমাধ্যমে জানান, আলোচনা ছিল ‘ফলপ্রসূ’। দুই দেশ তাদের ‘কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।

শুল্ক যুদ্ধের মাঝেই মোদি-ট্রাম্পের (Narendra Modi-Donald Trump) ফোনালাপ:

এই ফোনালাপের সময়টিই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে, অন্যদিকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পথও খোলা রাখতে চাইছে। ভারতীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ালও বর্তমানে আমেরিকা সফরে রয়েছেন এবং অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত। ফলে মোদি-ট্রাম্পের কথোপকথনকে চলমান বাণিজ্য আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে দুই নেতার ফোনালাপের পর সরকারি বিবৃতিতে শুল্ক কমানো বা কোনও নতুন বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়নি (Narendra Modi-Donald Trump)।

আরও পড়ুন: ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত হয়েও বাঁচিয়েছেন ১৭৪ জনের প্রাণ! ভারতীয় পাইলটকে কুর্নিশ জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

এরই মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটনের নতুন আইনি পদক্ষেপ ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন আইনে পরিণত হয়েছে ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’। আইনের একটি ধারায় রুশ উৎসের অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা নির্দিষ্ট দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতকে সরাসরি ১০০ শতাংশ শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে—এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা হয়নি। আইনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী দেশগুলির ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে এবং কোন দেশকে কী হারে শুল্কের মুখে পড়তে হবে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে ফোনালাপে রাশিয়ার তেল নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বলে একাধিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ভারতের তরফে আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল আমদানি করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে রুশ তেল, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য—এই তিনটি বিষয় এখন ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ হয়ে উঠেছে।

Narendra Modi-Donald Trump hold phone conversation amidst tariff war.

আরও পড়ুন: ৪ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজই থাকছে! তৃণমূলের আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ

সব মিলিয়ে মোদি-ট্রাম্পের (Narendra Modi-Donald Trump) ফোনালাপ দুই দেশের সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো কৌশলগত সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিয়েও দুই দেশের অবস্থান সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। তবে ফোনালাপের পরই শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কেটেছে, এমন কোনও সরকারি ঘোষণা এখনও নেই। বরং আগামী দিনে বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা, রুশ তেল আমদানি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এবং দুই দেশের কূটনৈতিক কথাবার্তার গতিপথই ঠিক করবে ভারতীয় পণ্যের উপর সম্ভাব্য শুল্কের বিষয়টি কোন দিকে যায়। আপাতত তাই মোদি-ট্রাম্পের কথোপকথনকে আলোচনার দরজা খোলা রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।