বাংলা হান্ট ডেস্ক: এই মুহূর্তে গোটা দেশে তথা বিশ্বে সকলের মুখে একটাই মাত্র নাম ঘুরছে, ‘হিরো’ স্মিত মচ্ছারের (Smit Machchhar) নাম। এদিন মাঝআকাশে আচমকাই ঘনিয়ে আসে মহাবিপদ। ককপিটে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম পাইলট, আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাজার হাজার ফুট নীচে নেমে যাচ্ছে বিমান। আতঙ্কে তখন বিমানের ১৭৪ জন যাত্রী। যে কোনও মুহূর্তে ঘটে যেতে পারত ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়েননি ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। গুরুতর আহত অবস্থায় ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার পর অন্য পাইলট ও ক্রু সদস্যরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। এই অসীম সাহসিকতার জন্য স্মিত মচ্ছারকে ‘হিরো’ বলে প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। তাঁর দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারের (Smit Machchhar) অসীম সাহসিকতার প্রশংসা প্রধানমন্ত্রী মোদির:
ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকালে। দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে উড়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স। উড়ানের মাঝপথে প্রথমে ৭৭০০ স্কোয়াক কোড পাঠানো হয়, যা সাধারণত গুরুতর জরুরি পরিস্থিতির সংকেত। তার কয়েক সেকেন্ড পর পাঠানো হয় ৭৫০০ কোড, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে হাইজ্যাক বা বেআইনি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এরপরই বিমানটির গতিপথ বদলে সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, বিমানের ককপিটের ভিতরেই ক্যাপ্টেন মচ্ছারের উপর হামলা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর সহ-পাইলট ছুরি দিয়ে হামলা চালান। সেই সময় বিমানটি প্রায় দুই মিনিটের মধ্যে ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নীচে নেমে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Smit Machchhar)।
আরও পড়ুন: অক্টোবর থেকেই বাড়তি বেতন, এক ধাক্কায় ৫-১০ হাজার টাকা বাড়ল শিক্ষাকর্মীদের
গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার যে সিদ্ধান্ত নেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর বিমানে থাকা অন্য পাইলট, ক্রু এবং কয়েকজন যাত্রী মিলে হামলাকারীকে কাবু করেন। বিমানটিকে সৌদির উত্তর-পশ্চিমে তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। হামলার ঘটনায় সহ-পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্যাপ্টেন মচ্ছারকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন।
এই ঘটনার পরই ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স-এ তিনি লেখেন, চরম বিপদের মুখে এবং গুরুতর আহত হয়েও মচ্ছার অন্যদের জীবন বাঁচাতে অসীম সাহস ও দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বীরত্ব বহু মানুষের জীবন রক্ষা এবং বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদির কথায়, “ভারত গর্বিত।” ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও মচ্ছারের প্রশংসা করে জানান, গুরুতর আহত হওয়ার পরেও তিনি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এর ফলে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভারতীয় পাইলটকে ‘হিরো’ বলে উল্লেখ করে তাঁর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন।

আরও পড়ুন: সিটং-কাণ্ডের পর কড়া নজর! রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোন কোন হোমস্টে চলছে, তথ্য চাইলেন পর্যটনমন্ত্রী
ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের (Smit Machchhar) দীর্ঘ বিমানচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ফ্লাইদুবাইয়ে গত চার বছর ধরে কাজ করছেন তিনি। তার আগে প্রায় ১০ বছর স্পাইসজেটে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, বোয়িং ৭৩৭ উড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর ১৩ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মোট উড়ান-অভিজ্ঞতা ৯ হাজার ৭৫০ ঘণ্টার বেশি। বুধবারের সেই ভয়াবহ মুহূর্তে তাঁর নিজের জীবনও চরম ঝুঁকির মধ্যে ছিল। তবু পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার জন্য তাঁর ভূমিকা এবং ককপিটের দরজা খোলার সিদ্ধান্তই যাত্রী ও ক্রুদের হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ করে দেয়। ফলে আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় এবং ১৭৪ জন যাত্রীকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছনোর পথ তৈরি হয়।













