সিটং-কাণ্ডের পর কড়া নজর! রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোন কোন হোমস্টে চলছে, তথ্য চাইলেন পর্যটনমন্ত্রী

Published on:

Published on:

Tourism Minister Shankar Ghosh take big step for unregistered homestays
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : পাহাড়ে পর্যটনের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোমস্টেগুলির সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু পর্যটকদের থাকার জায়গাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা যথাযথ, তা নিয়ে সম্প্রতি একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে হোমস্টেগুলি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইলেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh)। সিটঙের একটি হোমস্টেতে বার্বিকিউয়ের আগুনে নববধূ ঝলসে যাওয়ার ঘটনার পর সেই বিষয়টিই এবার প্রশাসনের অগ্রাধিকারের তালিকায়। পাহাড়ের হোমস্টেগুলিতে নিয়মকানুন ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, বিশেষ করে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই কোনও হোমস্টে চলছে কি না, তার বিস্তারিত হিসাব চাইলেন পর্যটনমন্ত্রী।

হোমস্টে নিয়ে বিস্তারিত তথ্য চাইলেন পর্যটন মন্ত্রী (Shankar Ghosh)

বুধবার শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে পাহাড়ের পর্যটন ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। জিটিএ এবং রাজ্যের পর্যটন দফতরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই বৈঠকে দার্জিলিং ও কালিম্পং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। দুই জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার ছাড়াও বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াঙের প্রশাসনিক আধিকারিক এবং কার্শিয়াঙের বিধায়ক সনম লামা।

বৈঠকে পাহাড়ের হোমস্টেগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কাছে এমন অভিযোগ পৌঁছেছে যে, একাধিক হোমস্টে প্রয়োজনীয় সরকারি নথি বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলছে। তাই দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় ঠিক কতগুলি হোমস্টে রয়েছে এবং তার মধ্যে কতগুলি নিয়ম মেনে নথিভুক্ত, সেই তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। একইসঙ্গে হোমস্টেগুলির উপর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সিটঙের দুর্ঘটনাই এই আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের এক দম্পতি কিছুদিন আগে মধুচন্দ্রিমার জন্য সিটঙে গিয়েছিলেন। সেখানেই বার্বিকিউয়ের আগুনে গুরুতরভাবে ঝলসে যান নববধূ। ঘটনার পর অভিযোগ ওঠে, সংশ্লিষ্ট হোমস্টেতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন সামনে আসে। আহত তরুণীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও দেরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। ফলে পাহাড়ে পর্যটকদের থাকার জায়গাগুলিতে জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

শুধু পুরনো হোমস্টেগুলির উপর নজরদারি নয়, নতুন করে এই ব্যবসায় আসার প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে রাজ্য। রেজিস্ট্রেশন, তার নবীকরণ এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার মতো কাজগুলি ধীরে ধীরে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে কেউ নতুন হোমস্টে চালু করতে চাইলে নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। অনলাইনেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।

পাহাড়ের পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় করার জন্য একাধিক নতুন পরিকল্পনাও বৈঠকে উঠে এসেছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, মিরিক, দুধিয়া, মংপু ও কার্শিয়াঙের মতো জায়গাগুলিতে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ তৈরি করার কথা ভাবছে সরকার। চা উৎসবের পাশাপাশি ‘ভিন্টেজ কার র‍্যালি’, ওয়াকাথন, রিভার ক্রাফ্টিং ও প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো আয়োজন করা হতে পারে। স্থানীয় সংস্কৃতি ও পাহাড়ের ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেও বিশেষ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে।

Tourism Minister Shankar Ghosh take big step for unregistered homestays

আরও পড়ুন : ময়দান বাঁচাতে ধর্মতলার বাসস্ট্যান্ড সরানোর নির্দেশ, বড় সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের

এদিকে, পাহাড়ের পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে ৫৭ কোটি টাকা পাওয়ার কথাও বৈঠকের পরে জানান শঙ্কর ঘোষ। বৈঠকের পর পর্যটন মন্ত্রী বলেন, “দার্জিলিঙের তিনটি মূল সমস্যা— যানজট, জঞ্জাল এবং পানীয় জল। যানজট কমাতে রোপওয়ে তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে পাঁচটি রোপওয়ে প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া হোমস্টে নীতি নিয়েও রাজ্য মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। পর্যটন শিল্পকে আরও ডিজিটাল করার পাশাপাশি পর্যটন দফতরের ওয়েবসাইটগুলিকেও নতুন করে সাজানো হবে।”পর্যটনের নতুন পরিকাঠামো ও আকর্ষণ তৈরির মাধ্যমেও পাহাড়ে পর্যটক বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এখন দেখার, নজরদারি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার এই উদ্যোগ বাস্তবে পাহাড়ের হোমস্টে পরিষেবায় কতটা পরিবর্তন আনে।