বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উঠে এল ‘মাছ’ ইস্যু। হলদিয়ায় সভা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) রাজ্যের মৎস্য উৎপাদন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পাল্টা দাবি করেন, এই ক্ষেত্রে বাংলা এখন অনেকটাই এগিয়ে। ফলে ভোটের আগে এই বিষয় নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক লড়াই।
হলদিয়ার সভা থেকে রাজ্যকে নিশানা প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi)
ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক প্রচার। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের আগে বৃহস্পতিবার হলদিয়ায় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে এই সভা থেকেই তিনি রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন।
সভায় মোদী (Narendra Modi) বলেন, বাংলায় এত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মৎস্য উৎপাদন এখনও পিছিয়ে। তাঁর দাবি, রাজ্যকে এখনও বাইরে থেকে মাছ আনতে হয়। পাশাপাশি তিনি জানান, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এই খাতে উন্নতি হয়েছে। বিহারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে মৎস্য উৎপাদন নাকি অনেকটাই বেড়েছে।
এদিন কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়েও রাজ্যকে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)। তাঁর অভিযোগ, ‘পিএম মৎস্য সম্পদ’ প্রকল্পের সুবিধা বাংলার মৎস্যজীবীরা ঠিকমতো পাচ্ছেন না। উল্টে রাজ্য সরকার সেই প্রকল্পের নাম বদলে দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সব কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছবে বলে আশ্বাস দেন মোদি। অন্যদিকে, মোদীর এই বক্তব্যের জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিনাখার সভা থেকে তিনি বলেন, বাংলায় এখন আর বাইরে থেকে মাছ আনতে হয় না। রাজ্য মৎস্য উৎপাদনে অনেকটাই স্বনির্ভর হয়েছে। এমনকি ইলিশ চাষও এখন বাংলাতেই হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে আগেই বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। তাদের দাবি ছিল, বিজেপি বাংলার খাদ্যাভ্যাস বদলাতে চাইছে। যদিও বিজেপি সেই অভিযোগ মানতে চায়নি। বরং ভোটের প্রচারে প্রার্থীদের মাছ হাতে দেখা গেছে, এমনকি দিলীপ ঘোষও মাছবাজারে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ বুথের ভেতরেই বসবেন পোলিং এজেন্টরা, গুজব উড়িয়ে বড় ঘোষণা কমিশনের
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব মেদিনীপুর এলাকায় বহু মানুষের জীবিকা মাছের সঙ্গে জড়িত। দিঘা ও শঙ্করপুরের মতো এলাকায় বড় আকারে মাছ উৎপাদন হয়। তাই এই জায়গায় দাঁড়িয়ে মাছের প্রসঙ্গ তুলে ভোটের আগে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিজেপি (Narendra Modi)।












