বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্য এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন মোড়, চিনের উদ্যোগে ফের আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি পাকিস্তান ও আফগানিস্তান (Pakistan-Afghanistan)। সপ্তাহ দেড়েক আগেই এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছিল, আর এবার তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে উরুমকিতে শুরু হয়েছে দুই দেশের কূটনৈতিক বৈঠক, যার লক্ষ্য সীমান্ত উত্তেজনা কমিয়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
যুদ্ধ থামাতে চিনের মধ্যস্থতায় বৈঠকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান (Pakistan-Afghanistan):
ডিসেম্বরে রিয়াধে বৈঠকের পর এই প্রথমবার দুই দেশ সরাসরি আলোচনায় বসল। এই বৈঠকের আগে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার চিন সফরে গিয়ে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর যৌথ বিবৃতিতে ডুরান্ড লাইনের সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা উল্লেখ করা হয়, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: ৯ ঘণ্টার চাকরি শেষে পরিবারকে সামলে চলত প্রস্তুতি! UPSC-তে সফল হয়ে দৃষ্টান্ত নিখিলের
গত এক বছরে ডুরান্ড লাইনের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি জঙ্গিরা আফগানিস্তানের মদতে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। অন্যদিকে আফগান তালিবান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে। এই পারস্পরিক অবিশ্বাসই দুই দেশের সম্পর্ককে ক্রমশ তলানিতে নিয়ে গেছে।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নাঙ্গরহর ও পকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় বহু মানুষের মৃত্যুও হয়। এরপর থেকেই সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজ়ব লিল হক’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে, যার ফলে ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড লাইনের অন্তত ৫৩টি স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পাক বাহিনীর হামলায় একাধিক হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: হাজার হাজার ফুট উচ্চতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সাহায্য করছে এই ‘যোদ্ধা’, জানলে চমকে যাবেন
এই পরিস্থিতিতে চিনের মধ্যস্থতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। দুই (Pakistan-Afghanistan) দেশের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই বৈঠক কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এই সংলাপ নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।












