বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাঞ্জাব (Punjab) সীমান্তে দুই সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত ভারত (India) -পাকিস্তান (Pakistan) সম্পর্ক। শুক্রবার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করা দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ—ভারতের পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পরই দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক চাপানউতোর। পাকিস্তান দাবি করেছে, নিহতরা সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী নয়, সাধারণ নাগরিক। সেই অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতও পাকিস্তানি কূটনীতিককে তলব করে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের ধারাবাহিক চেষ্টা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।
BSF-র গুলিতে ২ পাকিস্তানির মৃত্যুতে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব পাকিস্তানের (Pakistan)
ঘটনাটি ঘটে পাঞ্জাবের সীমান্তবর্তী এলাকায়। ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিএসএফ জওয়ানরা সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পেয়ে সতর্ক করেন। তাঁদের দাবি, সীমান্তের দিকে এগিয়ে আসা ব্যক্তিদের বারবার থামার নির্দেশ দেওয়া হলেও তাঁরা সেই সতর্কবার্তায় কান দেননি। এরপর পরিস্থিতিকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে বিএসএফ গুলি চালায় এবং দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, আরও এক ব্যক্তি ওই দলের সঙ্গে ছিল এবং সে পাকিস্তানের দিকে ফিরে যায়। নিহতদের পরিচয় ও তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্তও চলছে (Pakistan)।
আরও পড়ুন: পাঁচ মাসেই মেগা হিট! এক নজরে অন্নপূর্ণা যোজনার স্বপ্ন থেকে বাস্তবায়নের জয়যাত্রা
অন্যদিকে, ইসলামাবাদ সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি সামনে এনেছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, নিহত দুই ব্যক্তি নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিক ছিলেন এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অপ্ররোচিত’ প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করা হয়। পাশাপাশি ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান নিহতদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার ভারতীয় বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভারত অবশ্য পাকিস্তানের এই বক্তব্য মেনে নেয়নি। নয়াদিল্লির অবস্থান, সীমান্তে বেআইনি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতেই বিএসএফ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তানের দিক থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা এবং এর সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। দুই দেশের তরফেই একে অপরের কূটনীতিককে তলব করার ঘটনায় পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে সীমান্তের একটি ঘটনা এখন কূটনৈতিক স্তরেও নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: ফ্লাইওভারে ওঠার আগেই জানা যাবে ট্রাফিকের হাল, মা উড়ালপুলে বসছে ডিসপ্লে বোর্ড
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের (Pakistan) সঙ্গে পাঞ্জাবের আন্তর্জাতিক সীমান্ত প্রায় ৫৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং একাধিক সীমান্তবর্তী জেলার উপর দিয়ে এই সীমারেখা বিস্তৃত। এই অঞ্চলে অনুপ্রবেশের পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো বেআইনি কার্যকলাপ ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা জোরদার রেখেছে ভারত। সাম্প্রতিক ঘটনাতেও সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। তবে শুক্রবারের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা ঠিক কারা ছিলেন এবং তাঁদের ভারতে প্রবেশের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। আপাতত ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যেই ঘটনাটি ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।













