বিয়ে করতে অস্বীকার করায় ইতালিতে মেয়েকে খুন পাকিস্তানি দম্পতির! যা শাস্তি মিলল, শুনে আঁতকে উঠবেন

বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, এক পাকিস্তানি দম্পতির (Pakistani Couple) চরম লজ্জাজনক কাজের জেরে তারা ইতালিতে (Italy) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছে। মূলত, ইতালিতে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক তরুণী তার পরিবারের দ্বারা ঠিক করা বিয়েতে অস্বীকার করলে তার বাবা-মা তাকে হত্যা করে। ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণীর নাম সামান আব্বাস। সে ইতালির বোলোগনার কাছে নভেলারায় থাকত। পাকিস্তানে তার খুড়তুতো ভাইকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে ওই তরুণী। এদিকে, ২০২১ সালের মে থেকে সামান নিখোঁজ ছিল। এমতাবস্থায়, ওই তরুণীর বাবা-মা তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।

   

মা-বাবা হয়েই ওঠে শত্রু: সামানের নিখোঁজ হওয়ার পরে, তদন্তে জানা যায় যে, তার বাবা-মার ঠিক করা বিয়েতে অস্বীকার করার পরে তাকে হত্যা করে। যার ফলে অবশেষে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষে, ওই পাকিস্তানি দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে মধ্য ইতালির রেজিও এমিলিয়ার আদালত রায় দিয়েছে যে, বাবা-মা হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল এবং কাকার সহায়তায় মেয়েটিকে হত্যা করা হয়। মামলার শুনানিকালে তরুণীর কাকাকেও ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

Pakistani couple kills daughter in Italy for refusing to marry her

সামান আব্বাস থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল: এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, সামান আব্বাস তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করেছিল। ২০২০ সালের নভেম্বরে, একজন সমাজকর্মী তাকে আশ্রয় দেয়। ২০২১ সালের এপ্রিলে সে তার পরিবারের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল। তার পরিবার চাইত না সে তার প্রেমিকের সঙ্গে থাকুক। তাই, পরিবারের সদস্যরা সামান আব্বাসকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। তার প্রেমিকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ, গত মে মাসে মেয়েটির বাড়িতে অভিযান চালায়, কিন্তু তার বাবা-মা ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে চলে যায়।

আরও পড়ুন: এগিয়ে আসছে লোকসভা নির্বাচন! তার আগে ফের মোদীর মাস্টারস্ট্রোক, নিলেন এই বিশেষ পদক্ষেপ

সামনে আসে সিসিটিভি ফুটেজ: এদিকে, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ অনুসারে ওই তরুণীকে সম্ভবত ৩০ এপ্রিল বা ১ মে রাতে খুন করা হয়েছিল। ওই সময়ে পাঁচজনকে বেলচা, কাঠ এবং বালতি নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় এবং আড়াই ঘন্টা পরে ফিরে আসতেও দেখা যায়। এক বছর পর আব্বাসের মৃতদেহ পাওয়া যায় একটি খামারবাড়ি থেকে। তার ভাই পুলিশকে জানিয়েছে যে, সে তার বাবাকে হত্যার কথা বলতে শুনেছে এবং তার কাকা আব্বাসকে হত্যা করেছে।

আরও পড়ুন: গিরগিটির মতো রঙ বদলায় আম্বানির গাড়িও! চোখের পলকে সবুজ থেকে হয়ে গেল বেগুনি, ভাইরাল ভিডিও

পাকিস্তানে গ্রেফতার বাবা, সাজা হল ইতালিতে: এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত আব্বাসের বাবা শব্বরকে পাকিস্তান থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং ২০২৩ সালের অগাস্ট মাসে ইতালিতে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি, তার কাকা দানিশ হাসনাইনকে ফরাসি কর্তৃপক্ষ হস্তান্তর করেছে। তবে, তার মা নাজিয়া শাহীন এখনও পলাতক।