জমির নিয়মে কড়াকড়ি! পিএম কিষান রেজিস্ট্রেশনে নতুন শর্ত জারি, না জানলে বাতিল আবেদন

Published on:

Published on:

PM Kisan Registration New Rules & Online Application Guide
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দেশের কোটি কোটি কৃষকের কাছে পিএম কিষান সম্মান নিধি যোজনা একটি বড় ভরসার নাম। বছরে ৬ হাজার টাকার এই আর্থিক সহায়তা পেতে ২০২৬ সালের জন্য নতুন করে আবেদন বা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া (PM Kisan Registration) শুরু হয়েছে। তবে এবার নিয়মে এসেছে কড়া বদল। বিশেষ করে জমির মালিকানা নিয়ে নতুন শর্ত জানাটা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য ভুল হলেই আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই ফর্ম ফিলাপের আগে পুরো নিয়ম ভালো করে জেনে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। আসুন জেনে নিন সম্পূর্ণ নিয়ম বিস্তারিতভাবে।

জমির মালিকানা নিয়ে নতুন কড়া শর্ত

পিএম কিষানে নাম তোলার ক্ষেত্রে (PM Kisan Registration) সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে জমির মালিকানা সংক্রান্ত নিয়মে। শুধু নিজের নামে জমি থাকলেই হবে না, কবে এবং কীভাবে জমিটি নিজের নামে এসেছে, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

উত্তরাধিকার সূত্রে জমি

যদি ২০১৯ সালের পর বাবা, মা বা দাদুর মৃত্যুর কারণে জমিটি আপনার নামে রেকর্ড হয়ে থাকে, তাহলে আপনি এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য। আবেদন ফর্মে জমি পাওয়ার কারণ হিসেবে ‘Death of Father’, ‘Death of Husband’ ইত্যাদি অপশন সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে।

কেনা জমি হলে বাতিল

যদি ২০১৯ সালের পর টাকা দিয়ে জমি কিনে নিজের নামে করেন বা অন্য কোনও সাধারণ উপায়ে মালিকানা পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাহলে পিএম কিষানে আবেদন (PM Kisan Registration) করা যাবে না। এই ধরনের আবেদন এখন সরাসরি বাতিল করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

আবেদন (PM Kisan Registration) করার আগে যে নথিপত্র লাগবে

অনলাইনে ফর্ম পূরণের আগে সমস্ত নথি প্রস্তুত রাখা জরুরি। এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে। যে নথি গুলি প্রয়োজন সেগুলি হল –

  • আধার কার্ড: আবেদনকারী ও স্বামী/স্ত্রীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য
  • জমির রেকর্ড (পর্চা): খতিয়ান ও দাগ নম্বরের প্রমাণ এবং পিডিএফ আপলোডের জন্য
  • মোবাইল নম্বর: আধার ভেরিফিকেশন ও ওটিপি পাওয়ার জন্য
  • রেশন কার্ড: পারিবারিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য

অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি

১. প্রাথমিক ভেরিফিকেশন : অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘New Farmer Registration’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর ও রাজ্য নির্বাচন করে ওটিপি জেনারেট করতে হবে। আধারের সঙ্গে লিঙ্ক থাকা নম্বরে আসা ওটিপি দিয়ে ভেরিফাই করতে হবে।

২. ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই : ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে আধার কার্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাম, জন্মতারিখ, লিঙ্গ ও বাবার নাম চলে আসবে। আবেদনকারীকে নিজের ক্যাটাগরি (SC/ST/General) ও রেশন কার্ড নম্বর দিতে হবে। বিবাহিত হলে স্বামী বা স্ত্রীর আধার অথেন্টিকেশন বাধ্যতামূলক।

৩. জমির বিবরণ দেওয়া : জেলা, ব্লক ও গ্রামের নাম বেছে নিয়ে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং জমির পরিমাণ (একর এককে) সঠিকভাবে লিখতে হবে। জমি যৌথ মালিকানাধীন হলে ‘Joint’ এবং একক হলে ‘Single’ অপশন নির্বাচন করতে হবে।

৪. জমির মালিকানা হস্তান্তরের তথ্য : জমিটি কবে নিজের নামে হয়েছে এবং কী কারণে হয়েছে, তা ড্রপ-ডাউন মেনু থেকে নির্বাচন করতে হবে। সবশেষে জমির রেকর্ডের পিডিএফ আপলোড করে ফর্ম ‘Save’ করতে হবে।

আবেদন করার পর কী করবেন?

অনলাইনে আবেদন করলেই প্রক্রিয়া শেষ নয়। ‘Status of Self Registered Farmer’ অপশন থেকে নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করতে হবে। এরপর অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি, আধার কার্ড, ব্যাংক পাসবুক এবং জমির রেকর্ডের ফটোকপি নিয়ে স্থানীয় কৃষি দপ্তর বা ADA অফিসে জমা দিতে হবে। সেখানকার ভেরিফিকেশন ও অনুমোদনের পরই নাম চূড়ান্ত তালিকায় উঠবে।

Self-Edit Option Reopens with PM Kisan Update New 2025 Rules

আরও পড়ুনঃ নিঃসঙ্গ মালগাড়িতে লেখা শুরু, আজ দেশের মঞ্চে সম্মান, পদ্মশ্রী পাচ্ছেন অশোককুমার হালদার

কীভাবে পাওয়া যাবে টাকা?

বর্তমানে পিএম কিষানের (PM Kisan Registration) টাকা আধার বেসড ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতিতে পাঠানো হয়। তাই আলাদা করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার ও DBT লিঙ্ক করা আছে, টাকা সরাসরি সেখানেই জমা