একাধিক স্টেশনের পানীয় জলে ব্যাকটেরিয়া! পরিষেবায় ঘাটতি হাওড়া-শিয়ালদহতেও, ক্যাগ রিপোর্টে উদ্বেগ

Published on:

Published on:

Bacteria found in drinking water at multiple stations! Details revealed in CAG report.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: রেলস্টেশনে (Indian Railways) ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের কাছে পানীয় জল অন্যতম প্রয়োজনীয় পরিষেবা। কিন্তু সেই জলের মান নিয়েই এবার উদ্বেগের ছবি সামনে এল নিয়ন্ত্রক ও মহাহিসাব পরীক্ষক বা ক্যাগের রিপোর্টে (CAG Report)। গত ১২ অগস্ট সংসদে পেশ হওয়া ‘ভারতীয় রেলওয়ের নন-সাবার্বান রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী পরিষেবা ও স্বচ্ছতা’ সংক্রান্ত রিপোর্টে একাধিক স্টেশনের ওয়াটার কুলারের নমুনায় ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু পানীয় জলের গুণমান নয়, দেশের বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিষেবার ঘাটতিও ধরা পড়েছে এই অডিটে। ফলে রেলের পরিকাঠামো ও যাত্রী পরিষেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

একাধিক স্টেশনের পানীয় জলে ব্যাকটেরিয়া! ক্যাগ রিপোর্টে (CAG Report) উঠে এল উদ্বেগজনক তথ্য:

ক্যাগের (CAG Report) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছ’টি রেলওয়ে জোনের মোট ৫৯টি স্টেশনে পানীয় জলের ব্যাকটেরিয়াজনিত পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় কয়েকটি স্টেশনের কুলারের জলে ই-কোলাইয়ের উপস্থিতি পাওয়া যায়। তালিকায় রয়েছে সাউদার্ন রেলের কোয়েম্বাটোর এবং পালাক্কাড জংশন, সাউথ সেন্ট্রাল রেলের হায়দরাবাদ স্টেশন এবং সেন্ট্রাল রেলের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, ভিওয়ান্ডি রোড, কল্যাণ ও লোনাভালা। ই-কোলাই সাধারণত মলদূষণের সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাকটেরিয়া। পানীয় জলে এর উপস্থিতি থাকলে জল সরবরাহ ব্যবস্থা বা সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। দূষিত জল পান করলে কিছু ক্ষেত্রে পেটের অসুস্থতা বা সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: জার্মানির সঙ্গে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে বড় পদক্ষেপ! শীঘ্রই সম্পন্ন হবে ৭০,০০০ কোটির ডুবোজাহাজ চুক্তি?

পানীয় জলের পাশাপাশি সামগ্রিক যাত্রী পরিষেবার ছবিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয় বলে উঠে এসেছে রিপোর্টে। ক্যাগ দেশের বিভিন্ন জোনের ৫১২টি নন-সাবার্বান রেলস্টেশন খতিয়ে দেখে ৪৫৮টি স্টেশনেই কোনও না কোনও ন্যূনতম পরিষেবার ঘাটতি পেয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৮৯ শতাংশের বেশি স্টেশনেই প্রয়োজনীয় পরিষেবার ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল। কোথাও পর্যাপ্ত বসার জায়গা নেই, কোথাও শৌচাগারের ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, আবার কোনও স্টেশনে জলের কল বা অন্যান্য মৌলিক সুবিধার অভাব রয়েছে। দেশের ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিও এই তালিকা থেকে বাদ যায়নি। হাওড়া, শিয়ালদহ, নয়া দিল্লি, মুম্বই সেন্ট্রাল এবং ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসের মতো প্রথম শ্রেণির স্টেশনেও পরিষেবার ঘাটতির কথা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিপোর্টে নির্দিষ্ট পরিষেবাগুলির ঘাটতির ছবিও তুলে ধরা হয়েছে। ক্যাগের পরিদর্শনে ১২টি স্টেশনে পর্যাপ্ত পানীয় জলের কল না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। আটটি স্টেশনে পাখা এবং আরও আটটি স্টেশনে ওয়াটার কুলারের ঘাটতি পাওয়া যায়। যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় এমন স্টেশনগুলিতে এই ধরনের পরিষেবার ঘাটতি তাঁদের ভোগান্তি আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে গরমের সময় পর্যাপ্ত পানীয় জল এবং কুলিংয়ের ব্যবস্থা না থাকলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যদি পানীয় জলের গুণমান নিয়েও প্রশ্ন থাকে, তাহলে যাত্রী নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

Bacteria found in drinking water at multiple stations! Details revealed in CAG report.

আরও পড়ুন: জার্মানির সঙ্গে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে বড় পদক্ষেপ! শীঘ্রই সম্পন্ন হবে ৭০,০০০ কোটির ডুবোজাহাজ চুক্তি?

এই পরিস্থিতিতে পানীয় জলের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা ও নজরদারির আওতায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে ক্যাগ। শুধু কুলার বা কল বসিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে, সেই জল নির্ধারিত মান পূরণ করছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে রিপোর্টে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জল সরবরাহের উৎস থেকে কুলার পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অন্তর নমুনা পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে। রেলস্টেশনে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। তাই যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে শুধু ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বা পরিকাঠামো নয়, নিরাপদ পানীয় জল, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, বসার জায়গার মতো মৌলিক সুবিধাগুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাগের রিপোর্ট (CAG Report) সেই বিষয়টিই ফের সামনে এনে রেল কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।