‘সশস্ত্র নকশালদের যুগ শেষ, এখন লড়াই দিমাগি নকশালদের সঙ্গে,’ দীপাবলিতে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

Published on:

Published on:

PM Narendra Modi celebrates Diwali with CRPF personnel.

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিগত বছরগুলির রেশ বজায় রেখেই এবারেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) দেশের জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি (Diwali) উদযাপন করলেন। এই বছর তিনি ছত্তিশগড়ের বস্তারে CRPF জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি পালন করেছেন। এই এলাকাটি এক সময়ে নকশালদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এদিকে, জওয়ানদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বিরোধীদেরও আক্রমণ করেন এবং বলেন যে বিবেকহীন নকশালরা সংগঠনগুলি দখল করে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ‘এটাই প্রথম দীপাবলি যখন দেশের প্রতিটি জেলা নকশালবাদমুক্ত, এবং আমরা আপনাদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করছি।’ তিনি বলেন যে এর সমস্ত কৃতিত্ব জওয়ানদের ত্যাগ এবং নিষ্ঠার প্রাপ্য। প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও জানান যে, নকশালবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে তিনি তাঁদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করছেন।

জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi):

জানিয়ে রাখি যে, প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, ‘আমাদের সরকার এমন সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা নকশাল ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ফান্ডিংয়ে মারাত্মক আঘাত হেনেছে। আমাদের সরকারের সিদ্ধান্তে জাল মুদ্রার নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং নকশাল ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাপ্লাই চেন ব্যাহত হয়েছে। বিগত ৪৭ বছরে এই প্রথমবার, গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় কোনও CRPF জওয়ান প্রাণ হারাননি।’ প্রধানমন্ত্রী মোদীর মতে, ‘নকশালবাদের বিরুদ্ধে এই লড়াই সহজ ছিল না। একটা সময় ছিল যখন সারা দেশের প্রায় ২০ টি রাজ্যের ২৩০ টিরও বেশি জেলা নকশালবাদের কবলে ছিল। সন্ধ্যার পর জীবনযাত্রা থমকে যেত। মানুষের পক্ষে ঘর থেকে বের হওয়া অসম্ভব ছিল। নকশালরা মানুষের ভোটাধিকারও কেড়ে নিয়েছিল। বিহার, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্য প্রদেশ এবং ছত্তিশগড়—দেশের বিশাল অংশ বামপন্থী চরমপন্থার কবলে ছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষ অধ্যুষিত হাজার হাজার গ্রাম বছরে দু’হাজার পর্যন্ত নকশাল হামলার শিকার হতো।’

উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, ‘২০১০ সালে নিকটবর্তী দান্তেওয়াড়ায় নকশালদের সঙ্গে এক সংঘর্ষে ৭৬ জন CRPF জওয়ান শহিদ হন। ২০১০ সালে দান্তেওয়াড়ার আরেকটি ঘটনায় ৪৪ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হন। এই ভূমি আমাদের বীরদের রক্তে অভিষিক্ত হয়েছে। তবুও, নিজেদের প্রাসাদে অধিষ্ঠিত কোনও গণ্যমান্য ব্যক্তির মুখ থেকে একটিও কান্নার শব্দ শোনা যায়নি। তাঁদের চোখ থেকে এক ফোঁটাও অশ্রু ঝরেনি।’

আরও পড়ুন: শিশু দিবসেই তৈরি হবে নতুন ইতিহাস! দুর্ধর্ষ বিশ্বরেকর্ড গড়বেন বৈভব সূর্যবংশী, অপেক্ষায় অনুরাগীরা

বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন প্রধানমন্ত্রী: এদিকে, কংগ্রেসকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন যে, ‘গরিবি হটাও’ স্লোগান কয়েক দশকে যা অর্জন করতে পারেনি, তা ১২ বছরেই পরিলক্ষিত হয়েছে। বস্তারের মানুষ জানেন যে, যেখানেই নকশালদের প্রভাব রয়েছে, সেখানেই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হল উন্নয়নকে স্তিমিত করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলা। শিশুদের জন্য স্কুল খোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি, বরং সেগুলিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’

আরও পড়ুন: কল্যাণী হাইওয়ের কাছে ৪২০ কোটি ব্যয়ে অত্যাধুনিক টাউনশিপ! ‘সম্পূর্ণা ইমাজিন’-এর প্রেস কনফারেন্সে বড় ঘোষণা

‘অনেক সংগঠন দিমাগি নকশালদের দখলে চলে গেছে’: জওয়ানদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘নকশাল সংক্রান্ত হিংসা শেষ হয়েছে। জঙ্গল থেকে সশস্ত্র নকশালদের নির্মূল করা হয়েছে, কিন্তু দিমাগি নকশালরা অনেক সংগঠন দখল করে নিয়েছে। তারা দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে উসকানি দিয়ে চলেছে। দিমাগি নকশালরা অনেক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনে অনুপ্রবেশ করেছে। আমাদের অবশ্যই তাদের চিহ্নিত করতে হবে, তাদের পরাজিত করতে হবে এবং দেশকে সুরক্ষিত করতে হবে।’