বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারই প্রভাব পড়েছে ভারতের গ্যাস সরবরাহ নিয়েও। দেশজুড়ে অনেক জায়গায় গ্যাসের দোকান ও ডিলার অফিসের সামনে গ্রাহকদের লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গ্যাস নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করে বা সুযোগ নিয়ে কালোবাজারি করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্যাস নিয়ে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi)
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি NXT সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) বলেন, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্বের অনেক দেশের উপরই পড়ছে। তবে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, কিছু মানুষ এলপিজি পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং দেশেরও ক্ষতি হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি কালোবাজারির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠছে। এমন কোনও কাজ বরদাস্ত করা হবে না। যারা এই ধরনের কাজে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারগুলিকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)। তাঁর কথায়, পরিস্থিতির উপর সবসময় নজর রাখা জরুরি। যাঁরা অসৎ কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম এবং যুবসমাজ, সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।
জ্বালানি মজুত নিয়ে তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) জানান, ২০১৪ সালের আগে দেশে পেট্রোলিয়ামের মজুত খুবই কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৫০ লাখ টনেরও বেশি। ভবিষ্যতে এই মজুত আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া গত এক দশকে এলপিজি সংযোগের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৪ কোটি এলপিজি সংযোগ ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩৩ কোটিতে পৌঁছেছে। একইভাবে ২০১৪ সালে দেশে মাত্র চারটি এলএনজি টার্মিনাল ছিল, এখন সেই সংখ্যাও দ্বিগুণ হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ যুবসাথীর টাকা পেতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কী থাকা জরুরি? জানুন সরকারি নিয়ম
এরই মধ্যে গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। শহরাঞ্চলে আগের মতোই ২৫ দিন পর গ্যাস বুক করা যাবে। তবে গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে। অর্থাৎ একটি সিলিন্ডার বুক করার ৪৫ দিন পর আবার নতুন করে গ্যাস বুক করতে পারবেন গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকরা।












