বাংলা হান্ট ডেস্ক : গঙ্গা পারাপারের জন্য আর দীর্ঘপথ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে না—এমনই আশায় দিন গুনছেন পোদড়া এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘ ছ’বছর ধরে বন্ধ পোদড়া থেকে মেটিয়াবুরুজের রাজাবাগান পর্যন্ত ফেরি চলাচল। এবার সেই পরিষেবা ফেরানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল সরকার (West Bengal Government)। তৃণমূল থেকে আটকে ছিল কাজ, অবশেষে সেই রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হল। নতুন ঘাট তৈরি হলেও যাত্রীদের সেখানে পৌঁছনোর রাস্তা না থাকায় এতদিন চালু করা যায়নি ফেরি।
সরকারের (West Bengal Government) উদ্যোগে শুরু পোদড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন রাস্তা নির্মাণের কাজ
দুর্গাপুজোর নবমীতে শুরু হয়েছে প্রায় ২০০ মিটার রাস্তা তৈরির কাজ। আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কাজ সম্পূর্ণ হলে ফেরি পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে আর একটি বড় বাধা থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সাঁকরাইলের পোদড়ায় আদালতের নির্দেশ মেনে আগে থেকেই তৈরি করা হয়েছিল নতুন ফেরিঘাট। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ঘাটে বসানো হয় সৌরবিদ্যুৎচালিত আলো-সহ একাধিক আধুনিক ব্যবস্থাও। কিন্তু সত্যেন বসু রোডের সঙ্গে পোদড়া ঘাটের সরাসরি যোগাযোগের রাস্তা তৈরি না হওয়ায় গোটা পরিকাঠামোই এতদিন কাজে লাগানো যায়নি।
বিভিন্ন দপ্তরে বারবার বিষয়টি জানানোর পর এবং রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপে অবশেষে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কার্যকারিণী কমিটির সদস্য ইন্দ্রদেব দেব দুবের বক্তব্য, ঘাট নির্মাণের পরেও একাধিক জটিলতার কারণে রাস্তার কাজ এগোয়নি। সমস্যার কথা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংকেও জানানো হয়েছিল। আর তারপরেই পুজোর নবমী থেকে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এই ফেরি পরিষেবা বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে পাঁচপাড়া, ধুইলা, উনসানি এবং বাঁকড়ার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে। তাঁদের অনেকেই আগে গঙ্গা পেরিয়ে সহজেই রাজাবাগান পৌঁছে যেতেন। বিশেষত মেটিয়াবুরুজের পোশাক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাছে এই জলপথ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ীদের কাছে তৈরি পোশাক পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে নতুন কাজের বরাত সংগ্রহ—বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁদের নিয়মিত মেটিয়াবুরুজ যেতে হয়। ফেরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনই বেড়েছে যাতায়াতের খরচ।

আরও পড়ুন : দিওয়ালির আগেই বাড়ানো হল পুরসভার কর্মীদের মজুরি! ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রীর
এই পরিস্থিতিতে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরছে স্থানীয়দের মধ্যে। এক স্থানীয় বাসিন্দা কথায়, ‘রাস্তা তৈরি হয়ে ফেরি পরিষেবা চালু হলে হাটের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।’ এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে রাস্তার কাজ শেষ করা যায় কি না। সংযোগকারী রাস্তা তৈরি হলেই ফেরিঘাটকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হবে। পরিষেবা পুনরায় চালু হলে সাঁকরাইল ও আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হতে পারে।














