বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের নানা প্রান্তে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এই আবহে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভোট পরবর্তী হিংসায় মামলা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)
মুর্শিদাবাদ, মেদিনীপুর এবং কলকাতার একাধিক ঘটনার উল্লেখ করে জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। বহু ঘটনার কথা তুলে ধরে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে মামলায়। সোমবার দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে মামলাকারীর পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সেই আবেদন গ্রহণ করে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, মঙ্গলবারই মামলার শুনানি হবে।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল দুই দফায়। প্রথম দফা হয়েছিল ২৩শে এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা হয়েছিল ২৯শে এপ্রিল। ভোটে বড় ধরনের কোনো অশান্তির খবর সামনে না আসায় অনেকটাই স্বস্তিতে ছিলেন সাধারণ মানুষ।
ভোট মিটতেই পরিস্থিতির বদলে যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘর্ষ ও প্রতিহিংসার অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হিংসার অভিযোগ উঠছে ভোট পরবর্তী সময়ে। বাড়ি ভাঙচুর, দোকানে আগুন, পার্টি অফিস দখল, মারধর, হেনস্থার মতো অভিযোগ উঠেছে বহু জেলায়।
উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী অশান্তিতে প্রাণ গিয়েছে চারজনের। কলকাতার বেলেঘাটায় তৃণমূল কর্মী বছর ৪২-এর বিশ্বজিৎ পট্টনায়ক-এর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অন্যদিকে, বীরভূমের নানুরের সন্তোষপুর গ্রামে তৃণমূলের বুথ সভাপতি আবির শেখের দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তাঁর গলা কেটে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে রাজারহাটের বালিগড়ি এলাকায় বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনাও রাজনৈতিক হিংসার জেরেই বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে যাদব কর নামে এক বিজেপি সমর্থককে মারধর করে খুনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন : দেশজুড়ে নেওয়া হবে কোনও বড় সিদ্ধান্ত? কেন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। যদিও শাসকদল বিজেপি, বিরোধী তৃণমূল এবং পুলিশ প্রশাসনের তরফে বারবার শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে, তবু হিংসার অভিযোগ থামছে না। আদালতে মামলা দায়ের হওয়ার পর গোটা বিষয়টিতে গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এখন ভোট পরবর্তী অশান্তি মিটতে মঙ্গলবারের শুনানির দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ।













