বাংলা হান্ট ডেস্ক : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) চা বাগানের সমস্যা সমাধান করবেন বলে জানিয়েছিলেন। সেই মতোই চা শ্রমিকদের বকেয়া পিএফ (Provident Fund) মেটাতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ১ কোটি ২১ লক্ষ টাকারও বেশি প্রভিডেন্ট ফান্ড বকেয়া ছিল দার্জিলিংয়ের নামরিং টি এস্টেটের শ্রমিকদের। ইতিমধ্যেই ৮৩ লক্ষ টাকার বেশি জমা করেছে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। বাকি অর্থও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই আর্থিক জটিলতায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে শ্রমিকদের মধ্যে।
চা বাগান শ্রমিকদের বকেয়া পিএফ (Provident Fund) মেটাতে তৎপরতা
সুরভি প্ল্যান্টেশন প্রাইভেট লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত হয় নামরিং চা-বাগান। সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের PF সংক্রান্ত পাওনা দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ সামনে আসার পর শ্রম দফতরের তরফে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ করা হয়। মন্ত্রী-ইন-চার্জের নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেয় দফতর। প্রয়োজনে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহায়তাও নেওয়া হয়।
বকেয়া টাকার হিসাব সামনে আসতেই সমস্যার পরিমাণ স্পষ্ট হয়। শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ মোট পাওনা ছিল ১ কোটি ২১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩৪৭ টাকা। এর মধ্যে ৮৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ২০৫ টাকা ইতিমধ্যে জমা পড়েছে। ফলে এখনও ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার ১৪২ টাকা মেটানো বাকি। এই অবশিষ্ট অর্থ নিয়েও সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ।
২৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে পুরো বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি লিখিতভাবে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই অর্থ জমা পড়ে কি না, সেদিকেই নজর শ্রম দফতরের। শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকার যাতে কোনওভাবেই আটকে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : ৯ মাসেই মিলল বিচার! নতুন রাজ্য সরকারের জামানায় এই প্রথম মৃত্যুদণ্ডের রায় দিল আদালত
এদিকে উত্তরবঙ্গ সফরের সময় চা-শ্রমিকদের আর্থিক সুবিধা নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উৎসবের মরসুমে বোনাস বাড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, “দুর্গাপূজা, দেওয়ালি, ভাইফোঁটার আগেই চা শ্রমিকদের বোনাস ২০ শতাংশ করার কাজ অ্যাডভাইজর কমিটি করছি। আপনারা ২০ শতাংশ বোনাস পাবেন” নামরিংয়ের ক্ষেত্রে বকেয়ার বড় অংশ ইতিমধ্যেই মিটে যাওয়ায় শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার একটা অংশের সমাধান হয়েছে। তবে বাকি ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার ১৪২ টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়লেই PF সংক্রান্ত এই বকেয়ার পুরো অধ্যায়ের নিষ্পত্তি হবে।













