বাংলাহান্ট ডেস্ক: অন্ধকার যত গভীর হয়, আলোর দীপ্তি ততই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, এই কথার জীবন্ত উদাহরণ রাম ভজন। জীবনের কঠিনতম পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি হার মানেননি। সাফল্যের গল্প (Success Story) আজ অনেকেরই অনুপ্রেরণা। বাবার মৃত্যু, দারিদ্র্য আর পরপর ব্যর্থতার মাঝেও নিজের স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে রেখে অবশেষে তিনি UPSC পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন। অষ্টম প্রচেষ্টায় তাঁর এই জয় প্রমাণ করে, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনও বাধাই শেষ কথা নয়।
রামভজন কুমারের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
রাজস্থানের দৌসা জেলার বাপি গ্রামের বাসিন্দা রাম ভজন ছোটবেলা থেকেই কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হন। কিশোর বয়সেই তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে পাথর ভাঙার কাজ করতেন, যেখানে প্রায়ই আঘাত পেতেন। পরে কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে বাবার মৃত্যু তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে দেয়। সংসার চালানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ শুরু করেন, তবুও শিক্ষার প্রতি তাঁর আগ্রহ একটুও কমেনি।
আরও পড়ুন: ইরানে যুদ্ধবিরতিতে হতেই ভারতীয়দের কী নির্দেশিকা দিল কেন্দ্র ?
চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করেন এবং পরবর্তীতে পুলিশ কনস্টেবল পদে আবেদন করে নির্বাচিত হন। দিল্লি পুলিশে যোগ দেওয়ার পর তিনি চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যান। রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও উচ্চশিক্ষা অর্জনের এই প্রয়াস তাঁর দৃঢ় মানসিকতারই প্রতিফলন।
পুলিশে চাকরি করার পাশাপাশি তিনি সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি শুরু করেন। দিনে কাজের পর অবসর সময়ে নিজেই নোট তৈরি করে পড়াশোনা চালাতেন। ২০১৫ সালে প্রথমবার পরীক্ষা দিলেও ব্যর্থ হন। এরপর ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮—প্রতিটি বছরই চেষ্টা চালিয়ে যান। ২০১৮ সালে মেইনস পর্যন্ত পৌঁছেও মেধা তালিকায় জায়গা পাননি। পরপর সাতবার ব্যর্থতা সত্ত্বেও তিনি কখনো হাল ছাড়েননি, বরং প্রতিটি ব্যর্থতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে গিয়েছেন।

আরও পড়ুন: হলফনামায় বাড়ি-গাড়ি-সোনাদানার হিসেব দিলেন দেবাংশু, কত সম্পত্তির মালিক চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী?
অবশেষে ২০২২ সালে অষ্টম প্রচেষ্টায় সাফল্যের (Success Story) মুখ দেখেন রাম ভজন। প্রিলিমিনারি ও মেইনস উত্তীর্ণ হয়ে ইন্টারভিউতেও সফল হন তিনি এবং সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ৬৬৭ অর্জন করেন। তাঁর এই সাফল্যের পেছনে ছিল কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত রুটিন, পরিবারের সমর্থন এবং অদম্য আত্মবিশ্বাস। কাজ, পরিবার ও পড়াশোনার ভারসাম্য বজায় রেখে দিনে ৭-৮ ঘণ্টা অধ্যয়ন করা সহজ ছিল না, কিন্তু নিজের লক্ষ্য থেকে তিনি কখনো সরে যাননি, আর সেই দৃঢ়তাই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে স্বপ্নের গন্তব্যে।












