বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাজারে ফের মূল্যবৃদ্ধির (Inflation) চাপ বাড়ার ইঙ্গিত মিলল। সোমবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে ৪.৪৫ শতাংশ থাকা ভারতের (India) খুচরো মূল্যস্ফীতি আগস্টে বেড়ে হয়েছে ৪.৮২ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের কাছাকাছিই রয়েছে এই হার। রয়টার্সের করা অর্থনীতিবিদদের সমীক্ষায় আগস্টের মূল্যস্ফীতি ৪.৮০ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। পূর্বাভাসের পরিসর ছিল ৪.৪০ থেকে ৫.০৫ শতাংশ। বছরের প্রথমার্ধে মূল্যবৃদ্ধির হার বেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যান বলছে, ফের চাপ তৈরি হচ্ছে। মে মাসে ৩.৯৩ শতাংশ থেকে জুনে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.৩৮ শতাংশ হয়েছিল। এরপর জুলাইয়ে ৪.৪৫ শতাংশ এবং আগস্টে তা আরও বেড়ে ৪.৮২ শতাংশে পৌঁছেছে।
অগাস্টে খুচরো মুদ্রাস্ফীতিতে (Inflation) বৃদ্ধিতে মধ্যবিত্তের পকেটে চাপ:
মূল্যস্ফীতির (Inflation) এই বৃদ্ধির পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। জুলাইয়ে ৫.৫২ শতাংশ থাকা খুচরো খাদ্য মূল্যস্ফীতি আগস্টে বেড়ে হয়েছে ৫.৯৫ শতাংশ। গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.৬৪ শতাংশ, আর শহরাঞ্চলে তা আরও বেশি—৬.১৩ শতাংশ। রান্নাঘরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের দাম বৃদ্ধিই এই চাপ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। জুলাইয়ে পেঁয়াজের মূল্যস্ফীতি ছিল ২২.৫৪ শতাংশ, যা আগস্টে লাফিয়ে ৪৮.২৭ শতাংশ হয়েছে। রসুনের ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধি ৩৫.৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৩.৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। যদিও আদার দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। জুলাইয়ে ৮৩.৫৭ শতাংশ থাকা আদার মূল্যস্ফীতি আগস্টে কমে হয়েছে ৭৩.৮২ শতাংশ।
আরও পড়ুন: মাথার দাম ৭০ লক্ষ! জঙ্গি মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে ‘ওয়ারেন্ট’ জারি করল পাকিস্তান
তবে সব খাদ্যপণ্যের দাম যে একই হারে বেড়েছে, তা নয়। বেশ কিছু সবজির দাম কমায় সামগ্রিক খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা সামলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আগস্টে টমেটোর দাম ৩১.০৯ শতাংশ কমেছে, যেখানে জুলাইয়ে এই পতন ছিল ৪.৬০ শতাংশ। আলুর ক্ষেত্রেও মূল্যস্ফীতি নেতিবাচক রয়েছে। জুলাইয়ের -১৬.৫৬ শতাংশ থেকে আগস্টে তা হয়েছে -১৩.১৪ শতাংশ। ঢেঁড়ার দামও ৫.৪১ শতাংশ কমেছে, যা জুলাইয়ের ৫.৫০ শতাংশ পতনের কাছাকাছি। অন্যদিকে, আগস্টে চিনির দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর বিষয়টি নজরে এসেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মে মাস থেকে চিনি রফতানির উপর যে বিধিনিষেধ চালু করা হয়েছিল, তা সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা।
আগামী দিনে মূল্যস্ফীতির গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে আবহাওয়া, কৃষি উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারের উপর। স্বাভাবিক বর্ষা হলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়তে পারে এবং খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হবে। কিন্তু বৃষ্টির অনিয়ম বা আবহাওয়ার কোনও বড় পরিবর্তন হলে উল্টো প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। কারণ আমদানিনির্ভর তেলের দাম বাড়লে দেশে জ্বালানি ও পরিবহণের খরচ বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আমদানির খরচ এবং টাকার দামের উপরেও, যা পরোক্ষভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। অবশ্য সোমবার প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান এখনও প্রাথমিক এবং পরবর্তী সময়ে তা সংশোধিত হতে পারে।

এদিকে ২০২৭ অর্থবর্ষে মূল্যস্ফীতি (Inflation) নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আগস্টের নীতিগত বৈঠকে আরবিআই FY27-এর সামগ্রিক CPI মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ৫.১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা এবং সরবরাহজনিত চাপ কিছুটা কমার বিষয়টি এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। ত্রৈমাসিক পূর্বাভাসেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। Q1-এর পূর্বাভাস ৪.২ থেকে ৪.১ শতাংশ এবং Q2-এর ৫.১ থেকে ৪.৭ শতাংশ করা হয়েছে। Q3-এর পূর্বাভাস ৫.৯ শতাংশেই রাখা হলেও Q4-এর পূর্বাভাস ৫.৪ থেকে বাড়িয়ে ৫.৫ শতাংশ করা হয়েছে। আরবিআইয়ের মতে, স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক উঁচু থাকতে পারে এবং তৃতীয় ত্রৈমাসিকে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে পরে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। FY27-এর মূল মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও ৪.৭ থেকে কমিয়ে ৪.৩ শতাংশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।













