বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার উত্তর ২৪ পরগণা (North 24 Parganas) জেলার দেগঙ্গায় (Deganga) বিএলও-দের শাসক দলের ফতোয়ার মুখে পড়তে হল। পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে বিএলও-এর কর্মে আসীন স্কুল শিক্ষকদের জন্য, ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। তাতে স্বাক্ষর রয়েছে দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রিয়াংকা মন্ডল দাস এবং শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ এনামুল হকের।
উত্তর ২৪ পরগণার (North 24 Parganas) দেগঙ্গায় বিএলও-দের শাসক দলের ফতোয়া:
জানানো হয়েছে যে দেগঙ্গার সমস্ত প্রাথমিক এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে গুলিতে বিএলও-র কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্কুলে আসতে হবে এবং ছুটির পর তারা স্কুল ছাড়তে পারবেন। যদি এসআইআর সংক্রান্ত কোনও কাজ থাকে, তাহলে স্কুল ছুটির পর করতে বলা হয়েছে। আর বিএলও-এর কাজে যদি তাদের অন ডিউটি থাকতে হয়, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকের চিঠিও দেখাতে হবে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তরুণ কান্তি ঘোষ বলেন, ‘এদের অধিকার কতটুকু, সে সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। এই চিঠি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বা শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ কেউই জারি করতে পারেন না।’ বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীরা এ প্রসঙ্গে শাসক দলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।
আরও পড়ুন:১০০ ও ৫০০ টাকার নোটে বড় বদল! অচল হবে পুরনো নোট? কী জানাল RBI?
দেগঙ্গার বিডিও ফাহিম আলম বলেন, ‘বিএলও-রা নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করে। ওদের নির্দেশিকা দেওয়ার এক্তিয়ার একমাত্র কমিশনের।’ এরপরেও কি করে পঞ্চায়েত সমিতি থেকে এই ধরনের নির্দেশ আসতে পারে, সেটাই আশ্চর্যের বিষয়। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
আরও পড়ুন:পরীক্ষা শুরুর আগেই একগুচ্ছ নয়া নিয়ম, নির্দেশিকা জারি করল সিবিএসই বোর্ড

এই বিষয় নিয়ে জানাজানি হতেই, চাপের মুখে পড়ে শাসক দলের স্থানীয় নেতারা। পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ বলেন ‘এসআইআর-এর কাজের জন্য স্কুলে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। তাই আমরা বিএলও-দের জানিয়েছি, যা কাজ করতে হবে স্কুল ছুটির পরে।’ তবে শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ এনামুল হকের এই ধরনের বিবৃতি যে শাসক দলকে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা বলা বাহুল্য। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের গোচরে আসলে, বড় কোনও পদক্ষেপ নিতে পারে কমিশন। কারণ এসআইআর-এর কাজের ক্ষেত্রে কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না, সেটা সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপরেও শাসকদলের সদস্যের কাছ থেকে আসা এই ধরনের নির্দেশ যে অনৈতিক এবং নিন্দনীয় তা বলা বাহুল্য।












