শহীদ সমাবেশ সেরে বাড়ি ফেরার পথে মৃত্যু, ৭ বছরেও ডেথ সার্টিফিকেট পায়নি সহেন্দ্র দাসের পরিবার

Published On:

বাংলাহান্ট ডেস্ক : দিনের পর দিন কেটে যায়, কেটে যায় বছরের পর বছর। আবারও একটা ২১ জুলাই (21 July) আসে। আবারও একবার বাংলার শাসক দল রেড রোডের (Red Road) মঞ্চ থেকে হুংকার তোলে পালন করে ‘শহীদ দিবস’। কিন্তু কেউ আর খোঁজ নেয় না সহেন্দ্র দাসের (Sahendra Das) পরিবারের। কেমন আছে সহেন্দ্রর স্ত্রী-পুত্র? কারুর মাথাব্যাথা তা নিয়ে। আজ থেকে ৭ বছর আগে এমনই এক ২১ জুলাই অকালে প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল (Death) একনিষ্ঠ এক মমতা-ভক্ত ‘শহীদ’ সহেন্দ্র দাসের। পরিবারের একমাত্র রোজগারের আশয় হারিয়ে তাঁর মৃত্যুর পর মাঝ সমুদ্রে পড়ে আছে সহেন্দ্রর স্ত্রী-পুত্র। একচিলতে দরমার ঘরে বসে শুধুই হাহাকার করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই তাঁদের! সাত বছর কেটে গেলেও সাহায্য দূরে থাক, মৃত স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট টাও (Death certificate) হাতে পাননি মৃত তৃণমূল কর্মীর (TMC worker) হতভাগ্য স্ত্রী।

সাত বছর আগে এই ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে যোগ দিতে কলকাতা এসেছিলেন কোচবিহারের বক্সিরহাটের তৃণমূল সমর্থক সহেন্দ্র দাস। শহীদ দিবসের জমায়েত থেকে ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় রামপুরহাট স্টেশনের কাছে ল্যাম্পপোস্টে মাথা ঠুকে মৃত্যু হয় সহেন্দ্রবাবুর।

পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন সহেন্দ্রবাবুই। তাঁর মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে তাঁর পরিবার। তবে জানা যায়, সেই সময় কোচবিহারের তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ নাকি সহেন্দ্রর দেহ নিয়ে বাড়িতে এসে তাঁর পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মৃত সহেন্দ্রবাবুর স্ত্রীর দাবি তাঁদের সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রবি ঘোষ। কিন্তু কেই বা রক্ষা করবেন সেই প্রতিশ্রুতি? এমনকি ৭ বছর কেটে গেলেও পাননি স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেটই!

বিপর্যয়ের এখানেই শেষ নয়। বাবার মৃত্যুর ৯মাসের মধ্যেই মারা যায় তাঁর বড় ছেলেও। আর্থিক অনটনে বন্ধ হয়ে যায় সহেন্দ্রবাবুর ছোট ছেলে সুরজিৎ দাসের পড়াশোনা। মাধ্যমিকের পরেই দিনমজুরের কাজ শুরু করে সে। আর তার পর থেকে এভাবেই চলছে ‘শহীদ’ তৃণমূলকর্মীর সহেন্দ্র দাসের সংসার। সাহায্য চাইতে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বাড়ি গিয়ে কপালে জুটেছে শুধুই অপমান।

দেখতে দেখতে চলে এল আরও এক ২১ জুলাই। বৃহস্পতিবারই ‘শহীদ দিবস’ ‘সেলিব্রেট’ করতে রেড রোডে হাজির হবে লক্ষ লক্ষ তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের স্লোগানে মুখরিত হবে তিলোত্তমা কলকাতা। কিন্তু এই বিরাট উৎসবের বিপুল খরচের মাঝে আবারও বঞ্চিত থেকে যাবে ‘শহীদ’ সহেন্দ্র দাসের পরিবার।

সম্পর্কিত খবর

X