বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরানে (Iran) চলমান গণবিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র সামনে আনল মার্কিন সংবাদপত্র ‘দ্য টাইমস’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে ইতিমধ্যেই অন্তত ১৬ হাজার ৫০০ জন নাগরিক নিহত এবং প্রায় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর দাবিকৃত ১ হাজার মৃত্যুর সংখ্যার তুলনায় এই পরিসংখ্যান এক ভয়াবহ বাস্তবতা উন্মোচিত করেছে।
ইরানে (Iran) গণবিক্ষোভে গণহত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে
প্রতিবেদনটি তৈরি করতে দ্য টাইমস ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলের চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে। এক চক্ষু বিশেষজ্ঞ, ডাক্তার আমির পারাস্তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে রাবার বুলেট ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি যুদ্ধাস্ত্র প্রয়োগ করছে এবং আন্দোলনকারীদের মাথা ও বুক লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, রাইফেল ও মেশিনগানের গুলিতে বহু মানুষের শরীর বিদ্ধ হচ্ছে এবং রাস্তায় রক্তের হোলি খেলছে। তাঁর দাবি, গুলির আঘাতে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার মানুষ তাদের চোখ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুন: শত্রুর মোকাবিলায় নিশ্চিতভাবে হবেন সফল! শুধু মাথায় রাখুন চাণক্যের এই ৪ টি বাণী
ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকলেও, এলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট পরিষেবার মাধ্যমে কিছু তথ্য বাইরের বিশ্বে পৌঁছচ্ছে। এই পথেই ডাক্তার পারাস্তার মতো পেশাদাররা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন। হাসপাতালগুলিতে আহতদের ভিড়, চিকিৎসার অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম, রক্ত ও ওষুধের মারাত্মক ঘাটতি এবং তীব্র চাপের বর্ণনাও এসেছে তাদের কাছ থেকে। আহতদের সঠিক চিকিৎসার অভাবে স্থায়ী পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।
নিহত ও আহতদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিশু ও গর্ভবতী নারী রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। দেশব্যাপী হাসপাতালগুলোতে আহতদের চাপে স্বাভাবিক চিকিৎসাব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। সরকারিভাবে সমস্ত ধরনের স্বাধীন তথ্যপ্রবাহ ও সাংবাদিকতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যা প্রকৃত মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা গোপন করছে বলে আন্তর্জাতিক মহল সন্দেহ করছে।
আরও পড়ুন: বিস্ময় বালক! মাত্র ২০ ম্যাচেই যা করে দেখালেন বৈভব সূর্যবংশী, পিছিয়ে পড়লেন বিরাট কোহলিও
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি ইরানে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে ইরানি প্রশাসন কোনো নমনীয়তা না দেখিয়ে বরং আরও কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন চালিয়ে যাচ্ছে। এই দমননীতির ফলে প্রকৃত মৃত ও আহতের সংখ্যা সরকারি ঘোষণার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা করছে বিশ্ব সম্প্রদায়।












