বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের SIR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। নির্বাচন সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় গ্রুপ-বি আধিকারিকদের তালিকা নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরাসরি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
কী দাবী শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)?
শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) দাবি, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যে ৮,৫০০-র বেশি অফিসারের নাম নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে, সেই তালিকায় বহু অসঙ্গতি রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রুপ-বি অফিসারদের তালিকায় পঞ্চায়েত কর্মী, ক্লার্ক এমনকি অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা পুরোপুরি নিয়মবিরুদ্ধ। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট যদিও এসআইআর প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি, তবুও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত।
বিরোধী দলনেতার (Suvendu Adhikari) কথায়, “এ রাজ্যে গুন্ডামি চলছে আদালত নিজেই তা স্পষ্ট করেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকার পরেও এই ধরনের তালিকা তৈরি করা “অবিশ্বাস্য” এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
অন্যদিকে নবান্ন সম্পূর্ণভাবে এই অভিযোগ খারিজ করেছে। রাজ্য সরকারের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ ‘বি’ কর্মচারীদের তালিকা সম্পূর্ণভাবে অর্থ দফতরের ৬ অক্টোবর ২০২০ তারিখের স্মারকলিপি নম্বর ২১৬০-এফ(জে)ডব্লিউবি অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। ওই স্মারকলিপিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ এবং ‘ডি’—এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করার নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারিত রয়েছে।
নবান্নের দাবি, সেই নিয়ম ও বেতন কাঠামো মেনেই গ্রুপ-বি কর্মচারীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বিচ্যুতি বা অনিয়ম হয়নি। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমে যে সব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।
উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে SIR মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত ছিলেন। সে দিন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য আধিকারিক দেওয়া হয়নি, ফলে SIR প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সমস্যা হচ্ছে। এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী আদালতে জানান, রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য আধিকারিক দিতে প্রস্তুত এবং নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।

আরও পড়ুনঃ ফেব্রুয়ারিতে স্কুলে টানা ছুটি? উচ্চ মাধ্যমিকের নতুন গাইডলাইন ঘিরে চর্চা
এখন এই বিতর্ক শুধু প্রশাসনিক স্তরে সীমাবদ্ধ নেই। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-সহ বিরোধী নেতাদের মতে, বিষয়টি সরাসরি গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার সঙ্গে যুক্ত। পাল্টা রাজ্য সরকারের বক্তব্য সমস্ত পদক্ষেপই নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে এবং অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।












