বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আনন্দপুর–নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে চলছে ডিএনএ ম্যাপিং করে মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ, অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত মিছিলও করেন তিনি।
কী অভিযোগ শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)?
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ‘ওয়াও মোমো সংস্থার মালিক মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশ (স্পেন) সফরের সময় সরকারি টিমের অংশ ছিলেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মর্নিং ওয়াকেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি’। সেই কারণেই কি এখনও পর্যন্ত ওই সংস্থার মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়নি, এই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত মিছিল করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের কাছ থেকে অনুমতি পাওয়ার পরই গড়িয়া শীতলা মন্দির অথবা শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশন থেকে মিছিল শুরু হয়।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সুজিত বসু বলেন, “যে কোনও ঘটনা ঘটতেই পারে। সরকার চায় এমন ঘটনা না ঘটুক। তবে ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক থাকতে হবে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ডিএনএ টেস্টের পরই প্রকৃত মৃতের সংখ্যা জানা যাবে।” তিনি আরও জানান, দমকল রাজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এবং এমন পরিস্থিতিতে দমকল সর্বদা তৎপর থাকে। শুক্রবারের মিছিল থেকেই বিজেপির পক্ষ থেকে সুজিত বসুর পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আনন্দপুর–নাজিরাবাদ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলির সব এখনও শনাক্ত করা যায়নি। সেই কারণেই মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ ম্যাপিং শুরু করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা ও পরিচয় স্পষ্ট হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
কীভাবে আগুন লেগেছিল?
কীভাবে এই ভয়াবহ আগুন লাগল, তা এখনও নির্দিষ্ট করে জানায়নি পুলিশ বা দমকল। তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ওই এলাকায় পাশাপাশি দু’টি গুদাম ছিল। প্রথমে একটি গুদামে আগুন লাগে এবং সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ওয়াও মোমোর গুদামে। আগুনের গ্রাসে পড়ে প্রাণ হারান একাধিক কর্মী। তদন্তে আরও জানা যাচ্ছে, গুদামগুলি থেকে কিছু দেহাংশ উদ্ধার হলেও এখনও পর্যন্ত ২৮ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরি রয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া দেহাংশের হিসাব না মেলায় তদন্তে জটিলতা বেড়েছে পুলিশ ও দমকলের। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের পর কর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে ওয়াও মোমো কর্তৃপক্ষ। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, দুই কর্মী এবং একজন চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তারক্ষীর পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ওই পরিবারগুলিকে আজীবন মাসিক বেতন দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে সংস্থা।

আরও পড়ুনঃ SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়ম? স্ক্রিনশট দেখিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ শুভেন্দুর
নাজিরাবাদের এই ঘটনার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য সরকারকে দায়ী করছে বিরোধীরা। বিশেষ করে এই ইস্যুতে সরাসরি শাসকদলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।












