বাংলা হান্ট ডেস্ক : দীর্ঘদিন জাতীয় স্তরের পরিচ্ছন্নতা মূল্যায়নে বাংলার শহরগুলির উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এবার সেই ছবিতে বদলের ইঙ্গিত মিলল। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ ২০২৫-২৬-এর প্রতিযোগিতায় সম্মানিত হওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছে হুগলির তারকেশ্বর (Tarakeswar)। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পরিচিতির পাশাপাশি এবার পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবেও জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেতে চলেছে এই জনপদ। কেন্দ্রের তরফে এই খবর রাজ্যকে জানানো হয়েছে।
জাতীয় স্তরে সম্মানিত বাংলার তারকেশ্বর (Tarakeswar)
কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর বিষয়টি জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে চিঠি পাঠিয়েছেন। এই সম্মান প্রদানের জন্য আগামী ১১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তারকেশ্বরের প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য অগ্নিমিত্রা পালকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় স্তরের এই স্বীকৃতি রাজ্যের নগর প্রশাসনের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত, প্রায় এক দশক ধরে স্বচ্ছ সর্বেক্ষণের মতো জাতীয় মূল্যায়ন কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গের শহরগুলি অংশ নেয়নি। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পুরসভাগুলির সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক পরিষেবার মান যাচাইয়ের প্রতিযোগিতায় রাজ্যের শহরগুলির উপস্থিতি ছিল না। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই অবস্থার পরিবর্তনে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন : শিশু দিবসেই তৈরি হবে নতুন ইতিহাস! দুর্ধর্ষ বিশ্বরেকর্ড গড়বেন বৈভব সূর্যবংশী, অপেক্ষায় অনুরাগীরা
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত কয়েক মাসে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে। পুরসভাগুলির কাজের মান উন্নত করা এবং সমীক্ষায় অংশগ্রহণের উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলেই এবারের মূল্যায়নে রাজ্যের অধিকাংশ শহরকে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।স্বচ্ছ সর্বেক্ষণে অংশগ্রহণকারী শহরগুলির পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পদ্ধতি থেকে শুরু করে আবর্জনা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক পরিষেবার মান খতিয়ে দেখা হয়। শুধু রাস্তা বা জনবসতি পরিষ্কার রাখাই নয়, পুরসভার সামগ্রিক কাজকর্মও এই মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত।
১৫০টিরও বেশি নির্দিষ্ট সূচকের মাধ্যমে শহরগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই জাতীয় সম্মান অর্জন করতে চলেছে তারকেশ্বর। এই সাফল্যের নেপথ্যে শহরের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কাজে যুক্ত কর্মীদের অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তারকেশ্বরের বাসিন্দা, সাফাইকর্মী এবং পুরসভার কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য আগামী দিনে বাংলার অন্যান্য শহরকেও পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে উন্নত মানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।












