গাফিলতি হলেই শাস্তি! ভোটকর্মীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি কমিশনের

Published on:

Published on:

WB Election Duty Rules Tightened Before Election 2026
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করতে এবার কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটকর্মীদের দায়িত্ব, বুথের পরিকাঠামো, খাবারের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সামান্য গাফিলতির ক্ষেত্রেও কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সবকিছুই স্পষ্ট করে নতুন নির্দেশিকা (WB Election Duty Rules) জারি করা হয়েছে। কেন এই কড়াকড়ি? মূল লক্ষ্য, ভোটের দিন কোনো অনিয়ম বা প্রভাব যেন কাজ না করে এবং পুরো প্রক্রিয়াটা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়।

ভোটের ডিউটি নির্দেশিকায় কী কী বলা আছে (WB Election Duty Rules)?

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে পোলিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নতুন নিয়ম প্রকাশ করা হয়েছে (WB Election Duty Rules)। ভোটের আগের দিন থেকে শুরু করে ভোটের দিন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কীভাবে কাজ হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেক্টর অফিসারের দায়িত্ব : বুথে পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করা, ভোটকর্মীদের কাজের ওপর নজর রাখা এবং কোনো সমস্যা হলে ১৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া, এই সবকিছুই সেক্টর অফিসারের মূল দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।

খাবার সংক্রান্ত কড়া নিয়ম : ভোটকর্মীরা কোনো স্থানীয় ক্লাব, ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার দেওয়া খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না। নির্দিষ্ট ভেন্ডরের মাধ্যমেই খাবার সরবরাহ করা হবে। নিয়ম ভাঙলে সেক্টর অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

যাতায়াত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা : ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার থেকে বুথে যাওয়া এবং ভোট শেষে নিরাপদে ফেরা, পুরো যাতায়াত প্রক্রিয়ার তদারকি করতে হবে সেক্টর অফিসারকে। কোনো গোলমাল হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

বুথের পরিকাঠামো সংক্রান্ত নির্দেশ : যেসব বুথে সীমানা প্রাচীর নেই, সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে অস্থায়ী ঘেরা তৈরি করতে হবে। সেই সঙ্গে ওই বুথগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা : ভোট শুরুর আগে ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। বুথে অন্তত ৬টি প্লাগ পয়েন্ট রাখতে হবে, যাতে যন্ত্রপাতি ও কর্মীদের প্রয়োজন মেটানো যায়।

খাবারের ভাতা ও সাম্মানিক : ভোটকর্মীদের জন্য মাথাপিছু ১৭০ টাকা খাবারের ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসার ও ফার্স্ট পোলিং অফিসারদের জন্য আলাদা করে দৈনিক সাম্মানিক ভাতাও নির্দিষ্ট করা রয়েছে।

গাফিলতিতে কড়া শাস্তি : ভোটের কাজে সামান্য অবহেলাও আর মেনে নেওয়া হবে না। কোনো বুথে প্রিজাইডিং অফিসারের গাফিলতির কারণে পুনর্নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোলিং এজেন্ট সংক্রান্ত নির্দেশ : মকপোলের সময় উপস্থিত থাকা কোনো পোলিং এজেন্ট ভোটের সময় অনুপস্থিত থাকলে, সেটিও খতিয়ে দেখার দায়িত্ব প্রিজাইডিং অফিসারের। কোনো ধরনের ভয়ভীতি কাজ করছে কিনা, তা বুঝে দ্রুত রিপোর্ট করতে হবে।

Election Commission of India issues special guidelines for polling workers.

আরও পড়ুনঃ ৯০ দিনেও জমা হল না চার্জশিট! বেলডাঙ্গা হিংসা মামলায় ৩৫ জনের মধ্যে ১৫ জনের জামিন

এই নতুন নিয়মে (WB Election Duty Rules) একদিকে যেমন বুথে কিছু সুবিধা বাড়বে, অন্যদিকে ভোটকর্মীদের ওপর চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে খাবারের ১৭০ টাকার ভাতা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে অনেকের মধ্যে, কারণ তা কেন্দ্রীয় সুপারিশের তুলনায় কম। সব মিলিয়ে এবারের ভোট পরিচালনা করা কর্মীদের জন্য যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠছে।