বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে আন্দোলন আর দাবির পর অবশেষে বড় একটা পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। এবার অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও পেনশনারদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার হিসাব চেয়ে নির্দেশ জারি হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০১৯, এই চার বছরের বকেয়া কত, কার কত পাওনা, সব বিস্তারিত তথ্য এখন সরকারের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) হিসাব জমা নির্দেশ
রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তর সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে, যেখানে অনুদানপ্রাপ্ত বা গ্রান্ট-ইন-এইড স্কুলের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী এবং পেনশনারদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) ও ডিয়ারনেস রিলিফ (DR)-এর বিস্তারিত হিসাব চাওয়া হয়েছে। এই নির্দেশের পেছনে রয়েছে অর্থ দপ্তরের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে অর্থ দপ্তর একটি মেমোরেন্ডাম জারি করে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়—অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত, পৌরসভা এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার কর্মী ও পেনশনারদের বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
এর পরেই ১৬ মার্চ স্কুল শিক্ষা দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে দ্রুত এই তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেন। মূল লক্ষ্য হলো ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪৮ মাসের বকেয়া ডিএ ও ডিআর-এর সঠিক হিসাব সংগ্রহ করা। এই পুরো প্রক্রিয়াটি রাজ্য সরকারের ফিনান্স পোর্টালের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। যেসব কর্মীর বেতন IFMS বা HRMS পোর্টালের মাধ্যমে দেওয়া হয়, তাঁদের তথ্য সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।
কোন কোন দপ্তরের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে?
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের এই নির্দেশ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড ও সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে –
- পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC)
- উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ ও মধ্য শিক্ষা পর্ষদ
- প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ
- মিড-ডে মিল বিভাগ ও রবীন্দ্র ওপেন স্কুলিং
- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শিশু শিক্ষা মিশন
কি কি তথ্য দিতে হবে?
এই নির্দেশে মূলত তিন ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য গুলি হল –
- প্রথমত, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অধীনে থাকা সব শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও পেনশনারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা।
- দ্বিতীয়ত, প্রত্যেকের বেতন ও ভাতার অনুমোদিত (authenticated) তথ্য।
- তৃতীয়ত, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের প্রতিটি মাসে কত ডিএ বা ডিআর দেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাব

আরও পড়ুনঃ ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব ফয়সালা! ভোটার তালিকা নিয়ে বড় আশ্বাস দিল সুপ্রিম কোর্ট
দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্যের শিক্ষক ও কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এই নতুন নির্দেশ সেই সমস্যা মেটানোর দিকেই বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও কীভাবে টাকা দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট নয়, তবে সরকার জানিয়েছে বকেয়া (Dearness Allowance) মেটানোর পদ্ধতি নির্ধারণের কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই এই বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকের পরেই পরিষ্কার হবে, অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও পেনশনাররা কীভাবে তাঁদের বকেয়া টাকা পাবেন।












