পর্ষদের নির্দেশে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে জটিলতা! আতঙ্কে ভুগছে পড়ুয়ারা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন, তারপরেই শুরু, হবে মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Pariksha)। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আর তার আগেই শুরু হল অ্যাডমিট বিভ্রাট। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board Of Secondary Education) এবং রাজ্যের প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে চলা তর্ক বিতর্কের মাঝে অস্বস্তিতে পড়ুয়ারা। কারণ পর্ষদের তরফ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, নির্দেশিকা না মানা হলে দেওয়া হবেনা অ্যাডমিট কার্ড (Admit Card)।

   

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছরের শেষের দিকেই পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছিল, মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষিকা বা টিচার ইনচার্জদের একটি মুচলেকা দিতে হবে। এই মুচলেকা বাধ্যতামূলক। এদিকে পরীক্ষার আগে আগে বেঁকে বসেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। পর্ষদের ক্যাম্প অফিস থেকে অ্যাডমিট নিতে গিয়ে তারা সাফ জানিয়েছেন যে, কোনও মুচলেকা তারা দিতে পারবেননা।

এখন পর্ষদ ও শিক্ষকদের এই টানাপোড়েন না মিটলে পড়ুয়ারা যে ভালোরকম ফ্যাসাদে পড়বে সেকথা বলাই বাহুল্য। অধিকাংশ শিক্ষকের কথায়, তারা কখনও ভাবতেই পারেননি যে, এমনও কোনও নির্দেশিকা আসতে পারে। এই বিষয়ে একটি বৈঠকও ডেকেছে অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যাড হেডমিস্ট্রেসেস সংগঠন।

আরও পড়ুন : চাহিদা তুঙ্গে, লাক্ষাদ্বীপ ভ্রমণ সহজ করতে অতিরিক্ত বিমানের ঘোষণা করল এই সংস্থা! দেখুন টাইম টেবিল

আসন্ন সময়ে যদি এর মীমাংসা না হয় তাহলে পরীক্ষার আগে বেশ ভালো সমস্যায় পড়বে চলতি বছরের মাধ্যমিক পড়ুয়ারা। ওদিকে পর্ষদের তরফ থেকে এখনও কোনও নতুন বিবৃতি জারি করা হয়নি। এইদিন প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি জানিয়েছেন, ‘‌কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় সবাই একমত হয়েছেন যে, অ্যাডমিট নেওয়ার সময় কোনও স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকা ওই মুচলেকা দেবেন না।’

আরও পড়ুন : যাকে ভোট দিতে না করেছিল চিন, তাকেই ক্ষমতায় আনল তাইওয়ান! মুখ পুড়লো বেজিং-র

চন্দন মাইতির মতে, এই নির্দেশিকা অত্যন্ত অপমানজনক। এবং বাংলার ইতিহাসে এমন অপমানজনক ঘটনা নাকি কখনও হয়নি। নির্দেশিকা বাতিলের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর নিকট চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে খবর। উল্লেখ্য, এই মুচেলকা দিতে বলার পেছনে রয়েছে বড় কারণ। আসলে প্রতি বছরই নবম শ্রেণীর রেজিস্ট্রেশনের সময় দেখা যায়, কিছু ছাত্রছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন বাকি রয়ে গেছে। যার জন্য সমস্যায় পড়তে হয় পর্ষদকে। তাই ভবিষ্যতে এটা যেন না হয় সেই জন্য মুচেলকা দিতে বলা হয়েছে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষিকা ও টিচার ইনচার্জদের।