বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের উচ্চশিক্ষায় নিয়োগ প্রক্রিয়া ঢেলে সাজানোর ভাবনা শুরু হয়েছে। এতদিন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের নিয়ম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় শিক্ষক নিয়োগের কাজ পরিচালনা করত। এবার সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে নিয়োগের দায়িত্ব একটি নির্দিষ্ট সংস্থার হাতে দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। সেই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্য স্বতন্ত্র সার্ভিস কমিশন তৈরির প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।
কী পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)?
বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পরামর্শ সংগ্রহ করতে ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। গঠিত এই কমিটিতে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক এবং প্রশাসনিক বিভাগের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরাও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। প্রস্তাবিত সংস্থাটি কীভাবে পরিচালিত হবে, তার প্রশাসনিক ক্ষমতা কতটা হওয়া প্রয়োজন এবং কোন পদ্ধতিতে নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করা যেতে পারে, সেসব দিক বিশ্লেষণ করবেন তাঁরা। কমিশনের কাঠামো নির্ধারণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বর্তমান নিয়োগ ব্যবস্থার খুঁটিনাটিও বিবেচনায় আসতে পারে।

এই কমিটির কাজ কেবল একটি নতুন সংস্থা তৈরির পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত দেওয়া নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী ধরনের নীতি কার্যকর করা উচিত, সেই বিষয়েও নির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরি করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হবে। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফে এক মাসের মধ্যে সেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই কমিশন গঠনে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে সরকারের সামনে।
আরও পড়ুন : জানুয়ারি থেকে লাগু হচ্ছে সপ্তম পে কমিশন! রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় আপডেট
উল্লেখ্য, রাজ্যে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আগেই পৃথক কমিশনের ব্যবস্থা রয়েছে। স্কুলের শিক্ষক নির্বাচনের দায়িত্ব সামলায় স্কুল সার্ভিস কমিশন। কলেজের ক্ষেত্রেও রয়েছে নিজস্ব নিয়োগ কমিশন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিয়োগের জন্য একই ধরনের স্বতন্ত্র সংস্থা তৈরির বিষয়টি এবার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি ও নিয়ম চালু করা সম্ভব হবে কি না, তা খতিয়ে দেখবে বিশেষজ্ঞ দল।
তবে প্রস্তাবিত কমিশন বাস্তবে কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের হাতে থাকবে কি না, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিজস্ব ভূমিকা কতটা বজায় থাকবে— এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও মেলেনি। কমিটির সুপারিশ প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়গুলি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। তার মধ্যে পৃথক কমিশন গঠনের ভাবনা উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।












