বাংলা হান্ট ডেস্কঃ জল্পনা ছিলই, তা সত্যি করে গত ৫ ফেব্রুয়ারী অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশনের (7th Pay Commission) ঘোষণা করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সরকারের এই ঘোষণার ফলে উপকৃত হতে চলেছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী (Government Employees)। বেতনের কাঠামোয় আসবে আমূল পরিবর্তন। তবে কবে থেকে তা কার্যকর হবে? আপডেট জেনে নিন।
সপ্তম পে কমিশন সংক্রান্ত আপডেট | 7th Pay Commission
বাঁধাধরা নিয়ম না থাকলেও কেন্দ্র ও রাজ্যে সাধারণত দশ বছর অন্তর পে কমিশন গঠন করা হয়। ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর। নীতিগতভাবে ১লা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হতে চলেছে। তবে বাস্তবে তা কবে হবে সে বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়।
এতদিন রাজ্য সরকারি কর্মীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশন বা রোপা ২০১৯ (ROPA 2019)-এর অধীনে বেতন পাচ্ছিলেন। এবার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের অষ্টম বেতন কমিশনের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই নতুন কমিশনের ঘোষণা করা হল বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের।
যে কোনো পে কমিশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হল ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। মনে করা হচ্ছে নতুন বেতন কমিশনে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা বর্তমানে কেন্দ্রীয় হারে বেতন কাঠামোর কথা মাথায় রেখে ২.৯১ থেকে ৩.১৫ পর্যন্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বিবেচনা করতে পারে রাজ্য সরকার।
বলে রাখা ভালো ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ নিয়ে সরকারি তরফে কোনো আপডেট নেই। কিন্তু যদি এই হারে বেতন সংশোধন করা হয়, তবে কর্মচারীদের পকেট ফুলে-ফেঁপে উঠতে চলেছে। মনে করা হচ্ছে, নতুন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হলে মূল বেতন প্রায় তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বর্তমান বেসিক পে: ১৮,০০০ টাকা হলে ২.৯১ গুণ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে নতুন বেসিক পৌঁছে যেতে পারে ৫২,৩৮০ টাকায়। যদি তা ৩.১৫ গুণ ধরা হয় তাহলে নতুন বেসিক হতে পারে ৫৬,৭০০ টাকা। এখানে জানিয়ে রাখি, মূল বেতনের সাথে বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং মহার্ঘ ভাতা অর্থাৎ ডিএ-র (DA) পরিমাণও লাফিয়ে বাড়বে।
আরও পড়ুন: মাসে মাসে ১৫০০ টাকা পেতে চান? যুব সাথীর নতুন পোর্টালে আবেদনের সময় এই ভুলগুলো করবেন না
উল্লেখ্য, বাজেটে কমিশন গঠনের সদিচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে ঠিকই তবে এরপর লম্বা প্রক্রিয়া রয়েছে। এরপর নয়া পে কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা নোটিফিকেশন জারি করবে রাজ্য। এরপর ঘোষণা করা হবে কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সদস্যদের নাম। সেই কমিটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের সুপারিশ বা রিপোর্ট অর্থ দপ্তরে পেশ করবে। এরপর অর্থ দপ্তর সবুজ সংকেত দিলে পরই নতুন বেতন কাঠামো বলবৎ হবে সরকারি কর্মীদের। অর্থাৎ এখনও বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে সরকারি কর্মীদের।












