বাংলা হান্ট ডেস্ক: আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা AI-এর ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অগ্রগতির প্রসঙ্গে বড় প্রতিক্রিয়া দিলেন বর্তমানে ভারত তথা এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ধনকুবের গৌতম আদানি (Gautam Adani)। তিনি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ভ্যালুচেনে ভারতকে দেশীয়ভাবে সক্ষম করার আহ্বান জানিয়ে গত সোমবার বলেছেন, আগামী দশকগুলিতে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোই ভূ-রাজনৈতিক শক্তিকে সংজ্ঞায়িত করবে। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (CII)-এর বার্ষিক বিজনেস সামিট ২০২৬-এ ভাষণ দিতে গিয়ে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে বিশ্বায়নের কয়েক দশক পুরোনো ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাঁর মোট, বর্তমানে উদীয়মান বিশ্ব স্থির নয়। বরং এটি খণ্ডিত ও প্রতিযোগিতামূলক। এমনকি, বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর শাসনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বলেও মনে করেছেন তিনি। গৌতম আদানি বলেন ডেটাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং ক্লাউডকে অস্ত্রে পরিণত করা হচ্ছে। ডেটা সেন্টারের সুরক্ষিত বলয়ের ভেতরে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিকাশ ঘটছে।
কী জানিয়েছেন আদানি (Gautam Adani)?
সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং পরিকাঠামোর ওপর আক্রমণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ভারতীয় ধনকুবের বলেন যে, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন জাতীয় শক্তির ২ টি প্রধান স্তম্ভ। আদানির মতে, ভারতের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে শুধু সফটওয়্যার হিসেবে নয়, বরং জ্বালানি থেকে শুরু করে ডেটা সেন্টার, চিপ, নেটওয়ার্ক, কম্পিউটিং ক্ষমতা এবং মেধাকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন একটি কৌশলগত পরিকাঠামো হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন যে, ভারতের তার বুদ্ধিবৃত্তিক ভবিষ্যতের পরিকাঠামো ভাড়া করা উচিত নয়। বরং,বিসভারতের উচিত এগুলির দেশীয়ভাবে নির্মাণ, পরিচালনা এবং এর মালিকানা গ্রহণ করা। আদানি বলেন, উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবহন, লজিস্টিকস এবং ডিজিটাল পরিষেবা সেক্টরে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বৃহৎ পরিসরে জ্বালানি ও AI পরিকাঠামো তৈরির এক অনন্য সুযোগ ভারতের রয়েছে। ভারত ৫০০ গিগাওয়াট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং ভবিষ্যতের AI অর্থনীতির জন্য জ্বালানি ও কম্পিউট পরিকাঠামোতেও ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

AI এবং চাকরির প্রসঙ্গে কী জানিয়েছেন তিনি: আদানি বলেছেন যে AI শুধু সফটওয়্যার নয়। বরং, AI হল একটি পরিকাঠামো এবং শক্তি। এছাড়াও তিনি জানান, AI হল চিপস, নেটওয়ার্ক, ডেটা, প্রতিভা এবং শাসনব্যবস্থা। এদিকে, গৌতম আদানি এই ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করেছেন যে AI ব্যাপকভাবে চাকরি ধ্বংস করবে। আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন যে, ভারতের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, নতুন ছোট ব্যবসাগুলিকে শক্তিশালী করতে, চাকরি তৈরি করতে এবং ভারতীয়দের বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় সক্ষম করতে AI ব্যবহার করা উচিত।
আরও পড়ুন: দেশজুড়ে নেওয়া হবে কোনও বড় সিদ্ধান্ত? কেন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?
এদিকে, ডিজিটাল পেমেন্ট বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, UPI-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় ডিজিটালভাবে সংযুক্ত হয়েছেন। এর ফলে ফ্লিপকার্ট, পেটিএম, জেপ্টো, ফোনপে, ওলা, সুইগি, মিশো-র মতো সংস্থাগুলির উত্থান ঘটেছে। তিনি আরও বলেন যে, AI আরও বৃহত্তর পরিসরে কাজ করবে। আদানি AI-এর জন্য একটি ত্রি-স্তরীয় কাঠামোর বর্ণনা দেন, যার মধ্যে রয়েছে শক্তি উৎপাদন, কম্পিউট পরিকাঠামো এবং অ্যাপ্লিকেশন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে ডেটা এবং কম্পিউট পরিকাঠামোর দেশীয় মালিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আরও পড়ুন: ম্যাচ জিতেও জরিমানার সম্মুখীন! নিয়ম লঙ্ঘনের জেরে BCCI-র শাস্তির কবলে RCB-র হেড কোচ
আদানির রিনুয়েবল এনার্জি প্রজেক্ট: আদানি বলেন, ‘যদি আমাদের ডেটা বিদেশে প্রসেস করা হয়, তার মানে আমাদের ভবিষ্যৎও বিদেশে লেখা হচ্ছে।’ আদানি জানান, গ্রুপটি গুজরাটের খাওদায় তাদের ৩০ গিগাওয়াট রিনুয়েবল এনার্জি প্রজেক্টের ৩৫ শতাংশ ইতিমধ্যে চালু করেছে, যেটিকে তিনি বিশ্বের বৃহত্তম একক-স্থানের রিনুয়েবল এনার্জি প্ল্যান্ট হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, জ্বালানি রূপান্তর এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোতে গ্রুপটির মোট বিনিয়োগ ১০০ বিলিয়ন ডলার। তিনি ডেটা সেন্টার ব্যবসার জন্য তাঁর ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যার মধ্যে বিশাখাপত্তনমে একটি বৃহৎ ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য গুগলের সঙ্গে একটি অংশীদারিত্বও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আদানি বলেন ও, মাইক্রোসফট, ফ্লিপকার্ট এবং উবেরের মতো সংস্থাগুলিও ডেটা পরিকাঠামো প্রকল্পে এই গ্রুপের সঙ্গে সহযোগিতা করছে।













