বাংলা হান্ট ডেস্ক: নিত্যদিন বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন রকমের আবিষ্কার করে চলেছেন। কখনো লাল সাগর, নীল দ্বীপ, আবার কখনো জলের তলায় শহর আবিষ্কার চলছে। আর এবার জলের তলা থেকে যা বেরিয়ে এলো তা দেখে অবাক সকলেই। কোনো শহর নয় বরং সমুদ্রের গভীর থেকে বেরিয়ে এলো যুদ্ধজাহাজ। লাক্ষাদ্বীপ (Lakshadweep) কালপেনি দ্বীপের কাছে ডুবুরি ডুব দিতেই পেলো সেই জাহাজের সন্ধান। গবেষকদের ধারণা, কামান দিয়ে সজ্জিত এই জাহাজটি সম্ভবত ইউরোপীয় শক্তি অর্থাৎ পর্তুগিজ, ডাচ বা ব্রিটিশদের হতে পারে। তবে হঠাৎ জলের তলায় যুদ্ধজাহাজ কি করছে?
লাক্ষাদ্বীপ (Lakshadweep) জলের তলায় পাওয়া গেল যুদ্ধজাহাজ
লাক্ষাদ্বীপ (Lakshadweep) কালপেনি দ্বীপের কাছে জলের তলা থেকে যে যুদ্ধজাহাজ উদ্ধার হয়েছে তা আজকের নয় বরং ৩০০ বছরের পুরোনো। এটি আসলে জাহাজের ধ্বংসাবশেষ। শনিবার সকালে সমুদ্র গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ডুবুরিদের একটি দল এই যুদ্ধজাহাজের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায় বলে জানা গিয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, এই জাহাজটি ১৭ বা ১৮ শতকের। এটি হয়তো মধ্যপ্রাচ্য এবং শ্রীলঙ্কাকে সংযুক্তকারী প্রাচীন সমুদ্র পথের উপর আধিপত্য বিস্তারের যুদ্ধের সময়ই ডুবে গিয়েছিল। যার ধ্বংসাবশেষ ৩০০ বছর পর পাওয়া গিয়েছে।
এই জাহাজটি ঠিক কি দিয়ে তৈরি: যদিও গবেষকরা জানিয়েছেন, লাক্ষাদ্বীপ (Lakshadweep) অঞ্চলে এটিই হচ্ছে প্রথম আবিষ্কার। এর আগে এখান থেকে তেমন কোন কিছুই উদ্ধার হয়নি। জাহাজটি লোহা দিয়ে বা লোহা এবং কাঠের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে বলে অনুমান। এমনকি জাহাজে যেভাবে কামান সজ্জিত রয়েছে তা দেখেই গবেষকরা দাবি করছেন এটি যুদ্ধজাহাজ।
আরও পড়ুনঃ ৬০ থেকে ৬৫! বাড়ছে রাজ্যের এই সরকারি কর্মীদের অবসরের বয়সসীমা?
সমুদ্র অনুসন্ধানকারী দলে থাকা মেরিন লাইফ গবেষক সত্যজিৎ মানে এই বিষয়ে জানিয়েছেন, “যখন আমরা কালপেনির পশ্চিম দিকে ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেয়েছিলাম, তখন আমরা জানতাম না যে এটি একটি যুদ্ধজাহাজ । যখন আমরা একটি কামান এবং একটি নোঙ্গর খুঁজে পাই, তখন আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধান হতে পারে।” সত্যজিৎ মানে আরো জানান, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭ বা ১৮ শতকে এই পথে লোহার জাহাজ ব্যবহার শুরু করেছিল। তবে এখনও এই বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক কিছু জানা যায়নি। এ সম্পর্কে জানতে হলে জলের নিচে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা প্রয়োজন এবং ততক্ষণ পর্যন্ত এই এলাকাটিকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুনঃ সুন্দর পিচাই, সত্য নাদেলার বেতন তো নস্যি! এই ভারতীয় CEO দিনে যা কামান…..জানলে মাথা ঘুরে যাবে
আসলে গবেষকরা যে সময়ের জাহাজ বলে এটিকে অনুমান করছেন সেই সময় ব্রিটিশরা লোহার জাহাজ ব্যবহার করতো আর পর্তুগিজরা কাঠের জাহাজ। তার উপর জাহাজের ধ্বংসাবশেষে উদ্ধারের পর এতে প্রবাল এবং মরিচা ভর্তি রয়েছে। আর ঠিক এই কারণে জাহাজটি লোহার তৈরি নাকি কাঠের তা নির্ধারণ করা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। আপাতত সমস্তটাই এখন অনুমান মাত্র। গবেষণার পর এই বিষয়ে আসল তথ্য জানা যাবে। আর লাক্ষাদ্বীপ (Lakshadweep) যুদ্ধজাহাজ উদ্ধারের পর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের একজন বিজ্ঞানী এবং ডুবুরি সংস্থার পরামর্শদাতা ইদ্রিস বাবু জানান, “যে এই অঞ্চলে এর আগে এমন জাহাজের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়নি।”