বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝে অবশেষে কি শান্তির ইঙ্গিত মিলছে? এমনটাই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবাননের (Israel-Lebanon) সঙ্গে সংঘর্ষ থামাতে আলোচনায় বসতে রাজি ইজরায়েল। বৃহস্পতিবার তিনি তাঁর ক্যাবিনেটকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন লেবানন প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তবে ইজরায়েলের শর্ত মেনে লেবানন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
ইজরায়েল-লেবানন (Israel-Lebanon) যুদ্ধ বিরতি নিয়ে কি ভাবছেন নেতানিয়াহু?
এর আগেই ভারতীয় সময় বুধবার ভোর থেকে দু’সপ্তাহের জন্য সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান দাবি করেছিল, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও আসবে। কিন্তু সেই দাবি নস্যাৎ করে দেয় তেল আভিভ। ফলে ইরানে হামলা বন্ধ থাকলেও লেবাননে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায় ইজরায়েলি সেনা, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
আরও পড়ুন: গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ! বাংলাদেশে আবু সইদের হত্যার ঘটনায় ফাঁসির সাজা দুই পুলিশকর্মীর
লেবানন সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ইজরায়েলের একদিনের হামলায় অন্তত ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১,১৬৫ জন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। লাগাতার হামলার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। সেদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশ নীতি বিষয়ক কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবাননের উপর হামলা বন্ধ না হলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তাঁর মতে, যুদ্ধবিরতি যদি কার্যকর করতে হয়, তবে তা সব রণাঙ্গনে একসঙ্গে হতে হবে, নচেৎ কোনও জায়গাতেই তা স্থায়ী হবে না। এই মন্তব্যের পরই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যময় রত্নভান্ডারে অলঙ্কারের ছড়াছড়ি! তালিকা তৈরির দ্বিতীয় পর্ব শুরু
এই চাপের মধ্যেই আলোচনার পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন নেতানিয়াহু। যদিও এখনও পর্যন্ত ঠিক হয়নি কোথায় এবং কবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বা কারা মধ্যস্থতার দায়িত্ব নেবে। সূত্রের খবর, লেবানন (Israel-Lebanon) চাইছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে শান্তি আলোচনা হোক। একইসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় ইরানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।












