Durga Puja 2026 Live Updates

ভারতে নিলাম ৭৩৩ টি খনি! চালু মাত্র ১২৫ টি, কেন এমন পরিস্থিতি?

Published on:

Published on:

Why are only 125 mines operational in India, despite 733 mines having been auctioned?
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত (India) বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের (Critical Minerals) দখল নিয়ে প্রতিযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং রেয়ার আর্থ এলিমেন্টের মতো খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে চিনের (China) সঙ্গে যুক্ত সাপ্লাই চেইন বিঘ্ন ভারতের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। অথচ দেশের নিজস্ব খনিজ সম্পদ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেই বড়সড় বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রকে। কয়লা ও খনি মন্ত্রকের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিপুল সংখ্যক খনিজ ব্লকের নিলাম হলেও সেগুলির অধিকাংশে এখনও উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। ‘ইকোনমিক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যগুলিকে দ্রুত পদক্ষেপ করার বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। মুখ্যসচিবদের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনের আগে তৈরি একটি কনসেপ্ট পেপারে স্পষ্ট করা হয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে খনি ক্ষেত্রে অনুমোদন এবং উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করতে হবে।

কেন ভারতে (India) ৭৩৩ টি খনি নিলাম হওয়া সত্ত্বেও চালু মাত্র ১২৫ টি?

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের (India) বিভিন্ন রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট ৭৩৩টি খনিজ ব্লাম নিলাম করা হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের অগস্ট পর্যন্ত তার মধ্যে মাত্র ১২৫টি ব্লকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, বাকি ৬০৮টি ব্লক এখনও বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন এবং প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে আটকে রয়েছে। বড় ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ব্লকের ক্ষেত্রে নিলাম থেকে উৎপাদন শুরু করতে সাত বছরেরও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এই দীর্ঘসূত্রিতার ফলে একদিকে যেমন দেশের খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই রাজ্যগুলিও বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। খনি ক্ষেত্র থেকে প্রতি বছর সরকারি কোষাগারে ১.৯ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আসে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই পায় রাজ্যগুলি। ফলে খনির কাজ দ্রুত শুরু করা গেলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্পের প্রসার এবং রাজ্যগুলির আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনাও বাড়বে।

আরও পড়ুন: নজরে বেআইনি নির্মাণ ও কর আদায়! রাজ্যের ১৬টি পুরসভায় বিশেষ অডিটে নামছে ক্যাগ

দেশে ৯৫টিরও বেশি ধরনের খনিজ উৎপাদিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে চাহিদা মেটাতে এখনও আমদানির উপর নির্ভর করতে হয় ভারতকে। বিশেষত চিনের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা কৌশলগত দিক থেকে উদ্বেগজনক। ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকা খনিজের সহজলভ্যতা কমতে থাকায় মাটির আরও গভীরে পৌঁছে সম্পদ উত্তোলনের প্রয়োজন বাড়ছে। কিন্তু উন্নত গভীর খনন প্রযুক্তির ব্যবহার এখনও ভারতে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিদেশ থেকে এই প্রযুক্তি আনতে বিপুল খরচ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের একাংশও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। পাশাপাশি, উচ্চ বিশুদ্ধতার খনিজ প্রক্রিয়াকরণ এবং বিরল খনিজ নিষ্কাশনের পরিকাঠামোও পর্যাপ্ত নয়। এই ঘাটতি কাটাতে সমুদ্রসৈকতের বালিতে থাকা মোনাজাইটের মতো খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর জোর দিয়েছে কেন্দ্র। অপ্রধান খনিজের ক্ষেত্রেও জিআইএস-ভিত্তিক তথ্য এবং সুস্পষ্ট নিয়মের অভাব অবৈজ্ঞানিক খননকে উৎসাহিত করছে, যার প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপর।

খনি প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের পথে অন্তত ন’টি বড় বাধার কথা চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা জমি অধিগ্রহণ। অসম্পূর্ণ জমির নথি, মালিকানা নিয়ে বিরোধ, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জটিলতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির কারণে বহু প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে না। এর পাশাপাশি, বনভূমি ব্যবহারের অনুমতি পেতে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণমূলক বৃক্ষরোপণের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করতেও রাজ্যগুলিকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ফলে বনভূমি সংক্রান্ত ছাড়পত্র পেতে দেরি হচ্ছে। খনিজ পরিবহণে আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা এবং অবৈধ বালি ও পাথর উত্তোলনও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বেআইনি খননের ফলে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়েও বড় ধাক্কা লাগছে। অর্থাৎ, খনি নিলাম সম্পন্ন হলেও বাস্তবে উৎপাদন শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত প্রস্তুতির অভাব স্পষ্ট।

Why are only 125 mines operational in India, despite 733 mines having been auctioned?

আরও পড়ুন: জোকা-এসপ্ল্যানেড করিডরের কাজে গতি! ২৯৭.৪৫ কোটি টাকায় কী কী পরিকাঠামো তৈরি হবে? জানুন

এর উপর রয়েছে কর ও অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতা। বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক কর ও উপকর চালু থাকায় খনি সংস্থাগুলিকে নানা দফতরের অনুমতি নিতে হয়। অপ্রধান খনিজের জন্য একক অনলাইন পোর্টালের অভাব এবং জেলা সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরিতে বিলম্বও প্রকল্পের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। খনি থেকে উত্তোলিত সম্পদ পরিবহণের জন্য উন্নত সড়ক, রেল সাইডিং, বন্দর সংযোগ, স্টকইয়ার্ড এবং দ্রুত ট্রানজিট পারমিট ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। এই সমস্যাগুলির সমাধানে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সম্পূর্ণ মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র। সম্পদ চিহ্নিত করা থেকে নিলাম, উৎপাদন শুরু এবং খনির বর্জ্য থেকে মূল্যবান উপাদান পুনরুদ্ধার—প্রতিটি পর্যায়কে একই পরিকল্পনার আওতায় আনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, কেন্দ্রের এই নির্দেশের পর রাজ্যগুলি কত দ্রুত বাধা কাটিয়ে দেশের খনিজ সম্পদকে শিল্প ও অর্থনীতির কাজে লাগাতে পারে (India)।