বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর পর গ্রামবাংলার বহু পরিবারের জন্য আসতে পারে বড় আর্থিক স্বস্তি। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, উৎসবপর্ব শেষ হওয়ার পরই সরকারি প্রকল্পের (Government Scheme) উপভোক্তাদের হাতে প্রথম ধাপের ৬০ হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হতে পারে।প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির জন্য চলতি অর্থবর্ষে ৩০ লক্ষ পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য। পরবর্তী পর্যায়ে বাড়ি তৈরির অগ্রগতি যাচাই করে মিলবে বাকি অর্থ।
পুজোর পরেই ঢুকবে সরকারি প্রকল্পের (Government Scheme) টাকা
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা দেওয়ার আগে যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করছেন না এমন কেউ যাতে সরকারি সহায়তা না পান, তা নিশ্চিত করতেই চলছে একাধিক স্তরের যাচাই প্রক্রিয়া। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫৪.৫৯ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারের নাম প্রশাসনের হাতে এসেছে। এই বিপুল সংখ্যক আবেদন থেকে চূড়ান্ত উপভোক্তা বেছে নেওয়ার কাজই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আবেদন সংগ্রহের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছিল। প্রথমে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নাম নেওয়ার কথা থাকলেও পরে তা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক সমীক্ষার মাধ্যমে প্রায় ৪৪.৫ লক্ষ আবেদন পাওয়া গিয়েছে। এর বাইরে অনলাইনে জমা পড়েছে আরও অন্তত ১০ লক্ষ আবেদন। অর্থাৎ, প্রাথমিক তালিকা তৈরি হওয়ার পরেও এখনও চলছে যাচাইয়ের কাজ।
প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এবার একাধিক স্তরে পুনরীক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিডিও অফিস থেকে মোট আবেদনের ১০ শতাংশ আবার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর প্রতিটি বিডিওকে অন্তত ৫ শতাংশ আবেদন আলাদাভাবে পরীক্ষা করতে হবে। জেলা প্রশাসনের স্তরেও আরও ২ থেকে ৩ শতাংশ নাম পুনরায় যাচাই করা হবে। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তালিকা নিয়ে সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাধারণ এলাকায় পাকা বাড়ি তৈরির জন্য একজন উপভোক্তা সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষেত্রে সহায়তার পরিমাণ ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার পর নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় হিসাবপত্র পরীক্ষা করা হবে। সেই যাচাই সন্তোষজনক হলে পরবর্তী কিস্তির অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন : পুজোর শ্যামাপ্রসাদের ইতিকথা! সুরুচি সংঘের থিমে বড় চমক
আবার বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। নির্মিত পাকা আবাসনের আয়তন কমপক্ষে ২৫ বর্গমিটার হতে হবে। বাড়ির নকশায় রান্নার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত জায়গা রাখার শর্তও রয়েছে। এর পাশাপাশি শৌচালয় নির্মাণের জন্য আলাদা করে ১২ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। টাকা পাওয়ার আগে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।সব যাচাই শেষ করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরির পরই শুরু হবে টাকা দেওয়ার পালা।














