বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠনের প্রস্তুতি শুরু হতেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের অবসরকালীন সুবিধা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গ্র্যাচুইটির নিয়মে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলেছে বিভিন্ন কর্মী ও পেনশনভোগী সংগঠন। কারও দাবি গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানো হোক, আবার কেউ বর্তমান হিসাব পদ্ধতি বদলের প্রস্তাব দিয়েছে। এমনকি কর্মরত অবস্থায় কোনও কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবার যাতে আরও বেশি আর্থিক সাহায্য পায়, সেই দাবিও উঠেছে।
গ্র্যাচুইটি নিয়ে কী কী পরিবর্তনের দাবি উঠছে (8th Pay Commission)?
বর্তমানে সরকারি কর্মীরা কমপক্ষে পাঁচ বছর চাকরি করার পর অবসরের সময় গ্র্যাচুইটি পান। চাকরিরত অবস্থায় কোনও কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারও এই সুবিধা পেয়ে থাকে। এখন যে নিয়ম চালু রয়েছে, তাতে প্রতি পূর্ণ ছয় মাসের চাকরির জন্য মূল বেতন ও ডিএ-র এক-চতুর্থাংশ হারে গ্র্যাচুইটি হিসাব করা হয়। তবে মোট টাকা কর্মীর বেতন ও ডিএ-র ১৬.৫ গুণের বেশি হতে পারে না। পাশাপাশি গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ সীমা বর্তমানে ২৫ লক্ষ টাকা।
ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন (IRTSA) দাবি করেছে, এই সীমা বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা করা হোক। সংগঠনের মতে, প্রতি ছয় মাসের চাকরির জন্য মূল বেতন ও ডিএ-র এক-তৃতীয়াংশ ধরে গ্র্যাচুইটি গণনা করা উচিত। এছাড়া ৩৩ বছর বা তার বেশি চাকরি করা কর্মীদের ক্ষেত্রে গ্র্যাচুইটির পরিমাণ বেতন ও ডিএ-র ৩২ গুণ পর্যন্ত হওয়া উচিত বলে তাদের মত।
মৃত্যুজনিত গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে আইআরটিএসএ। তাদের দাবি, কর্মীর মোট চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা নির্ধারণ করা হোক। এক বছরের কম চাকরি হলে মূল বেতনের চার গুণ, এক থেকে পাঁচ বছর হলে ১২ গুণ, পাঁচ থেকে ১১ বছর হলে ২৪ গুণ এবং ১১ থেকে ২০ বছর হলে ৩০ গুণ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়া ২০ বছরের বেশি চাকরি থাকলে প্রতি পূর্ণ ছয় মাসের জন্য মোট প্রাপ্ত বেতনের অর্ধেক অংশ গ্র্যাচুইটি হিসেবে ধরা যেতে পারে। তবে সেই অর্থ সর্বোচ্চ ৫০ গুণ এমোলিউমেন্টসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ন্যাশনাল কাউন্সিল-জেসিএম (NC-JCM)-এর কর্মী প্রতিনিধিরা আরও বড় দাবি তুলেছেন। তাদের মতে, গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ সীমা ৭৫ লক্ষ টাকা করা উচিত। পাশাপাশি বর্তমান ৩০ দিনের পরিবর্তে ২৫ কার্যদিবস ধরে গ্র্যাচুইটি হিসাব করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কর্মী প্রতিনিধিদের আরও দাবি, বর্তমানে গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে যে ১৬.৫ গুণের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা তুলে দেওয়া উচিত। কারণ এই নিয়মের ফলে দীর্ঘদিন চাকরি করা অনেক কর্মী তাঁদের প্রাপ্য সুবিধার পুরোটা পান না।

আরও পড়ুনঃ PF-এর সুদের হার ফাইনাল! আপনার অ্যাকাউন্টে কত টাকা জমা পড়বে জানুন
অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশে (8th Pay Commission) এই দাবিগুলির কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেটাই দেখার। তবে গ্র্যাচুইটি নিয়ে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।













