বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অষ্টম বেতন কমিশনকে (8th Pay Commission) সামনে রেখে এবার পেনশনারদের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হল। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পেনশন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই স্মারকলিপি জমা পড়েছে। এতে বয়সজনিত সুবিধা থেকে শুরু করে পুরনো পেনশন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার মতো একাধিক বিষয় উঠে এসেছে।
কী কী দাবি তুললেন পেনশনাররা (8th Pay Commission)?
রেলওয়ে সিনিয়র সিটিজেন্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (RSCWS) অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) কাছে তাদের দাবি জানিয়ে বলেছে, পেনশন কোনও দয়া নয়, এটি কর্মজীবনের উপার্জিত অধিকার। সেই কারণে পেনশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও ন্যায্য করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় দাবি হল, বর্তমানে চালু থাকা কন্ট্রিবিউটরি স্কিমের বদলে পুরনো নির্দিষ্ট সুবিধাভিত্তিক পেনশন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি, অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে বৈষম্য কমাতে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেনশন সংশোধনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বয়স কমিয়ে অতিরিক্ত পেনশনের দাবি
বর্তমানে ৮০ বছর বয়সের পর অতিরিক্ত পেনশন দেওয়া হয়। তবে প্রবীণদের দাবি, এই সুবিধা ৭০ বছর থেকেই চালু করা হোক। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়।
DA ও ভাতায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে ১০০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) সংযুক্তিকরণের দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে সরকারি কর্মীদের জন্য আলাদা মূল্যসূচক তৈরির কথাও বলা হয়েছে। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণে নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে একটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে চার ধরা হবে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যবীমা, ইন্টারনেট খরচ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে জোরালো দাবি
রেল থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য দেশজুড়ে ক্যাশলেস স্বাস্থ্য পরিষেবা চালুর দাবি উঠেছে, যা CGHS-এর মতো হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দূরবর্তী অঞ্চলে থাকা প্রবীণদের জন্য চিকিৎসা খরচ ফেরতের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘বাম-ডান ভুলে একজোট হোন!’ কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিস্ফোরক ডাক মমতার
প্রবীণদের মতে, দেশের বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়া কোনও বোঝা নয়, বরং বাস্তবতা। তাই ভবিষ্যৎ ও বর্তমান পেনশনারদের মধ্যে সমতা রেখে এমন একটি পেনশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার আর্জি জানানো হয়েছে, যাতে জীবনের শেষ পর্বেও সম্মানের সঙ্গে বাঁচা যায় (8th Pay Commission)।












