শিয়ালদহে এবার ১৯৪৭-এর স্মৃতি! তৈরি হচ্ছে বিশেষ ভাস্কর্য

Published on:

Published on:

Special sculpture being created in Sealdah
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : দেশভাগের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে শিয়ালদহ স্টেশন (Sealdah) । ১৯৪৭-এর পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা অসংখ্য উদ্বাস্তু এই স্টেশন দিয়েই কলকাতায় পৌঁছেছিলেন। সেই স্মৃতিকে এবার স্থায়ী রূপ দিতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে দেশভাগের সময় ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের স্মরণে একটি বিশেষ স্মারক ভাস্কর্য তৈরি করা হবে।

শিয়ালদহ স্টেশন (Sealdah) বিশেষ স্মারক ভাস্কর্য

দেশজুড়ে স্বাধীনতা দিবসের আবহে এবারও পালিত হবে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি। ৯ অগাস্ট থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সেই কর্মসূচিরই সূচনা পর্বের অনুষ্ঠানে শিয়ালদহের স্মারকের বিষয়টি সামনে আসে।

কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত জানান, স্মারক তৈরির জন্য শিয়ালদহ স্টেশন প্রাঙ্গণে জায়গা নির্দিষ্ট করেছে ভারতীয় রেল। সংস্কৃতি মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে তৈরি হতে চলা এই কাজ আগামী নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
দেশভাগের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য প্রতি বছর ১৪ অগাস্ট ‘দেশভাগ বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ পালন করা হয়।

ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্তকলা কেন্দ্রের সদস্য সচিব সচ্চিদানন্দ জোশী জানিয়েছেন, এবছরও ওই দিনটিকে ঘিরে কলকাতা ও অমৃতসরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তাঁর কথায়, দেশভাগের ফলে যে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল, তার স্মৃতি আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। শিয়ালদহে প্রস্তাবিত স্মারকটি দেখতে ঠিক কেমন হবে, তা নিয়েও স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন জোশী।

জানা গেছে, এটি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির মূর্তি নয়। বরং বিমূর্ত শিল্পের মাধ্যমে দেশভাগের যন্ত্রণা তুলে ধরা হবে। যে সময়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজের বাড়ি, জমি, পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অজানা জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, সেই বেদনার প্রতিফলন থাকবে ভাস্কর্যে।

Special sculpture being created in Sealdah

আরও পড়ুন :‘স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুকে বুলেট খেয়েছেন, আর MP হয়ে ডিমে ভয়?’ মহুয়াকে সুপ্রিম-ভর্ৎসনা

প্রসঙ্গত, কলকাতায় এই স্মারক তৈরির পিছনে রয়েছে বাংলার দেশভাগের নিজস্ব ইতিহাস। ১৯৪৭-এর বিভাজনের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে বহু পরিবার পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। ঘর ছেড়ে পালিয়ে আসা সেই মানুষদের কাছে শিয়ালদহ হয়ে ওঠে নতুন জীবনে পা রাখার অন্যতম প্রবেশদ্বার।এই স্মারক পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ এবং দেশভাগের কারণে বাস্তুচ্যুত উদ্বাস্তুদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক হয়ে উঠবে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হলে শিয়ালদহের এই স্মারক দেশভাগের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে।