‘স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুকে বুলেট খেয়েছেন, আর MP হয়ে ডিমে ভয়?’ মহুয়াকে সুপ্রিম-ভর্ৎসনা

Published on:

Published on:

Supreme Court slams Mahua Moitra over fear of egg attack
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিদ্বেষমূলক মন্তব্য মামলায় পুলিশি হাজিরার নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। তবে সেখানেও মিলল না স্বস্তি। উল্টে শীর্ষ আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ। এই মামলা খারিজ করে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীলা নাগুরের বিশেষ বেঞ্চ।

মহুয়ার মামলা খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট | (Supreme Court)

এদিনের শুনানিতে মহুয়ার আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ আদালতে বলেন, পুলিশের নোটিশ অনুসারে মহুয়াকে তাঁর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি থানায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। তবে অতীতের একাধিক ঘটনা স্মরণ করিয়ে আইনজীবীর যুক্তি, গতবার তাঁর মক্কেল যখন সেখানে গিয়েছিলেন, তখন তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয়েছিল। সেই কারণে ভার্চুয়াল মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান তিনি।

আরও পড়ুনঃ DA নিয়ে চর্চার মাঝেই HRA নিয়ে বিরাট আপডেট! সরকারি কর্মীদের বড় নিয়ম স্পষ্ট করল কেন্দ্র

এই আবেদন শুনে পাল্টা সুপ্রিম কোর্টের তরফে প্রশ্ন করা হয়, “আপনি একজন সাংসদ। রাজনীতির ময়দানে নামার পরেও ডিম ছোঁড়ার মতো বিষয়কে এতখানি ভয় পাচ্ছেন?” এরপরেই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়।

বিচারপতি দত্ত ও বিচারপতি নাগুরের বেঞ্চের তরফে বলা হয়, “আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যেখানে বুকের উপর বুলেট খেয়েছেন, সেখানে ডিমের ভয়ে এই ধরণের আবেদন নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আসাই উচিত নয়।“

এদিন সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে কোনও রকম হস্তক্ষেপ করতে তাঁরা রাজি নয়। শীর্ষ আদালত আবেদন গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করার পর আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আগামী ১ অক্টোবর হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

Supreme Court

এদিকে গত ২১ জুলাই বিদ্বেষমূলক মন্তব্য মামলায় মহুয়াকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, আগামী ৫ অক্টোবর অবধি তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ।

পাশাপাশি মহুয়াকে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। আদালত জানায়, তদন্তের স্বার্থে তাঁকে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। এরপরেই এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তবে শীর্ষ আদালতে কোনও রকম স্বস্তি পেলেন না তিনি।