বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে (India) ডেঙ্গুর (Dengue) প্রকোপ দীর্ঘদিনের সমস্যা। বর্ষা ও তার পরের সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি বছরই এই মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ বাড়ে। গুরুতর পরিস্থিতিতে প্রাণহানিও ঘটে। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশে প্রথম টিকা আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি Qdenga টিকা ভারতে আনার জন্য হায়দরাবাদ-ভিত্তিক Dr Reddy’s Laboratories-এর সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। দুই সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ২০২৭ সালের প্রথম ছ’মাসের মধ্যেই ভারতের বেসরকারি বাজারে এই টিকা পাওয়া যেতে পারে।
ভারতে আসছে প্রথম ডেঙ্গুর (Dengue) ভ্যাকসিন Qdenga:
চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে Qdenga-র প্রচার ও বণ্টনের দায়িত্ব নেবে Dr Reddy’s। শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক—দুই ক্ষেত্রেই টিকাটি বেসরকারি বাজারের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনও টিকার দাম চূড়ান্ত করা হয়নি। তাকেদার ইন্টারকন্টিনেন্টাল মার্কেটস-এর প্রধান মহেন্দ্র নায়েক জানিয়েছেন, ভারতে Qdenga-র বাজারজাতকরণের অনুমোদন জুলাই মাসে মিলেছে। ফলে বাণিজ্যিকভাবে টিকা সরবরাহ শুরু করার আগে স্থানীয় স্তরে প্রয়োজনীয় বেশ কিছু প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। সেই কাজগুলি সম্পূর্ণ হওয়ার আগে টিকার দাম ঘোষণা করা ঠিক হবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি (Dengue)।
আরও পড়ুন: আর নেই ছাড়? ভারতের ওপর সত্যিই চাপবে ১০০ শতাংশ শুল্ক? নতুন আইন ট্রাম্পের
এই সহযোগিতার মাধ্যমে শুধু টিকা বাজারে আনার পরিকল্পনাই নয়, ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বক্তব্য, ভারতের প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক বিধি মেনেই বেসরকারি ক্ষেত্রে টিকাকরণ কর্মসূচি পরিচালিত হবে। অর্থাৎ সরকারি গণটিকাকরণ কর্মসূচিতে Qdenga অন্তর্ভুক্ত না হলেও আপাতত বেসরকারি বাজারের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিরা টিকা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। সরকারি টিকাকরণ কর্মসূচিতে ভবিষ্যতে এই টিকা যুক্ত করার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভারতে ডেঙ্গুর চারটি প্রধান সেরোটাইপ—DENV-1, DENV-2, DENV-3 এবং DENV-4—বিভিন্ন অঞ্চলে একই সময়ে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্কের দেশব্যাপী নজরদারি সমীক্ষায় একাধিক সেরোটাইপের উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ১৪ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে একই সময়ে একাধিক সেরোটাইপের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ফলে রোগের বিস্তার এবং সংক্রমণের ধরন নিয়ে নজরদারি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ‘সবাই নয়, অন্নপূর্ণা যোজনা কেবল..,’ টাকা ঢোকার মাঝেই কড়া বার্তা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের
Qdenga-কে ঘিরে তাই ভারতে ডেঙ্গু (Dengue) প্রতিরোধে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে টিকা বাজারে আসার আগে দাম, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসবে। সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক ভাবে টিকা সরবরাহের প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে। ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী Qdenga ভারতের বেসরকারি বাজারে আসে, তা হলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাকরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছেও একটি নতুন বিকল্প তৈরি হবে।













