বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত (India) সহ রাশিয়া (Russia) থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর আরও চাপ বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল আমেরিকা (America)। ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’-এ শুক্রবার সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে বিলটি এবার আইনে পরিণত হল। এই আইনের আওতায় রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অর্থাৎ ভারতের উপর এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক বসেছে, এমন নয়; তবে ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ করার আইনি ক্ষমতা ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে চলে এল।
ভারতের (India) ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর পথ আরও প্রশস্ত করল ট্রাম্প:
রাশিয়ার জ্বালানি ব্যবসা থেকে আয় কমিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে মস্কোর উপর আর্থিক চাপ বাড়ানোই এই আইনের অন্যতম লক্ষ্য। রুশ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির পাশাপাশি রাশিয়ার উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা দেশ বা সংস্থার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আইনটিতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ হিসেবে পরিচিত তেলবাহী জাহাজগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে (India)।
আরও পড়ুন: ‘যোগীর থেকেও বেশি অত্যাচারী, মেয়েদের কোনো নিরাপত্তা নেই!’ বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার
আইন হওয়ার আগে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই বিলটি অনুমোদিত হয়। গত ৭ অগস্ট মার্কিন সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাশ হয়েছিল। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২৬২-১৫৯ ভোটে সেটি অনুমোদন পায়। দু’কক্ষের অনুমোদনের পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য বিলটি হোয়াইট হাউসে যায়। শুক্রবার ট্রাম্প তাতে সই করতেই সেটি কার্যকর আইনে পরিণত হয়েছে। বিলটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে, যিনি এই নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন।
এই নতুন আইনের প্রভাব ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে আসছে এবং বর্তমানে ভারত বিশ্বের বড় রুশ তেল ক্রেতাদের অন্যতম। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন যদি নতুন ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তা হলে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক বসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই পরিস্থিতিতে পড়তে পারে চিন-সহ রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলিও। তবে কোন দেশের উপর কত শতাংশ শুল্ক বসবে, কোন পণ্য তার আওতায় আসবে এবং কবে থেকে তা কার্যকর হবে—এই সিদ্ধান্ত এখনই চূড়ান্ত হয়নি।

আরও পড়ুন: আজ থেকেই শুরু করুন, অবসরের পর প্রতি মাসে নিশ্চিত টাকা! সরকারের এই স্কিমে বড় সুবিধা
ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের পিছনে মূলত রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থনৈতিক ভিত্তিতে চাপ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, রুশ জ্বালানি থেকে পাওয়া আয় কমানো গেলে মস্কোর উপর চাপ বাড়বে। অন্যদিকে, ভারতীয় দিক থেকে এই ধরনের শুল্কের সম্ভাবনা বাণিজ্য ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ট্রাম্পের হাতে নতুন ক্ষমতা এলেও এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সেই ক্ষমতা তিনি ভারতের (India) ক্ষেত্রে কতটা এবং কীভাবে প্রয়োগ করেন।













