বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলার ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে ফের নড়েচড়ে বসল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঠিক মতো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবার বিশেষ পর্যবেক্ষক পাঠানো হচ্ছে রাজ্যে । বৃহস্পতিবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ এবং তৃণমূলের তরফে কমিশনে দেওয়া নথি জমা দেওয়ার পরই পরিস্থিতি আরও গরম হয়। আর সেই আবহেই তৎপরতা বাড়িয়ে দিল কমিশন।
কমিশনের (Election Commission) বিশেষ পর্যবেক্ষক আসছেন রাজ্যে
কমিশন (Election Commission) সূত্রের খবর, বাংলার এসআইআর কাজ পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছেন সুব্রত গুপ্ত। শুধু তিনি নন, মোট ১২ জন আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিককে এ কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর-দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা উত্তর-দক্ষিণ-সহ একাধিক জেলার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে।
প্রতিটি আধিকারিক তাঁদের দায়িত্বের জেলার এসআইআর কাজ খতিয়ে দেখে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাবেন বিশেষ পর্যবেক্ষকের কাছে। এরপর সেই রিপোর্ট যাবে দিল্লির নির্বাচন কমিশনে (Election Commission)।
বিএলওদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন
এর আগের দিনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি অভিযোগ করেন, “দিল্লিতে বসে দু’টি জ্ঞানগর্ভ বাণী দিলে চলবে না, গ্রাউন্ড জিরোতে এসে দেখতে হবে বাস্তব পরিস্থিতি।” বিএলও-দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।
তৃণমূলের প্রতিনিধি দলও দিল্লিতে
শুক্রবার সকালে তৃণমূলও পৌঁছে যায় দিল্লির কমিশন (Election Commission) দপ্তরে। মৃত বিএলও ও মৃত ভোটারের তালিকা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের টেবিলে জমা দিয়ে আসে তাঁরা। তাঁদের দাবি বাংলায় ভোটের প্রস্তুতিতে গড়বড় হচ্ছে, তালিকা থেকে শুরু করে মাঠের কাজ, সব কিছুতেই নজর দেওয়া প্রয়োজন।
একদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপির আক্রমণ। একযোগে শাসক–বিরোধীর অভিযোগের পরই কমিশন (Election Commission) তৎপর হয়। বাংলায় পরিস্থিতি সরেজমিনে বুঝতে সরাসরি মাঠে নামছে তারা। এসআইআর প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছভাবে হচ্ছে, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যকে ৭ দিনের ডেডলাইন! রিপোর্ট দিতে কঠোর নির্দেশ হাই কোর্টের, কোন মামলায়?
সব মিলিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির, দুই দিক থেকেই অভিযোগ ওঠায় কমিশন (Election Commission) এবার কঠোর অবস্থানে। বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আর কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সরাসরি পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।












