২ বছর পর ফের উর্ধমুখী মেডিকেল ট্যুরিজম! কলকাতার হাসপাতালে ৩৫% বাড়ল বাংলাদেশী রোগী

Published on:

Published on:

Banglashi Patient increased as Visa processing smoothend for Medical Tourism
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কলকাতার হাসপাতালগুলোতে ফের একবার বাংলাদেশী রোগীর (Bangladeshi Patient) সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে মেডিকেল ট্যুরিজমে (Medical Tourism) নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হচ্ছে বলা যেতেই পারে। দুই বছরের বিরতির পর ভারতের পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় প্রতিবেশী দেশের রোগীরা আবার শহরের বেসরকারি হাসপাতালে ফিরে আসছেন।

ভিসা পাওয়া সহজ হতেই বাড়ছে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা

আসলে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশে অস্থিরতার পর ভারত সরকার ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ কফেছিল। যার ফলে চিকিৎসা পর্যটনে কার্যত ধস নেমেছিল। তবে গত ২৮ জুন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভিসা কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় নিয়মিত পর্যটন ভিসা আবেদন শুরু হয়। ফলস্বরূপ মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১.৪ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়ে। এর আগে জরুরি বা মানবিক কারণ ছাড়া মেডিকেল ভিসা পাওয়া কঠিন ছিল। তবে এখন পর্যটন ভিসার সঙ্গে মেডিকেল ভিসার অনুমোদনও দ্রুত বাড়ছে।

ডিসান হাসপাতালের কলকাতা ও শিলিগুড়ি ইউনিটে গত চার সপ্তাহে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সজল দত্ত জানান, নিয়মিত ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা পর্যটন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আর এন ঠাকুর হাসপাতালে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত মাসে প্রায় ২,২০০ বহির্বিভাগ ও ২০০ অন্তর্বিভাগ রোগী আসতেন। ২০২৫ সালের শেষে তা মাসে ২০ জনেরও নিচে নেমে গিয়েছিল। তবে বিগত তিন-চার সপ্তাহে সেই সংখ্যা পুনরায় ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণা হেলথের পূর্বাঞ্চলের সিওও আর ভেঙ্কটেশ।

আরও পড়ুনঃ ‘কাউকে রেয়াত নয়!’ বেআইনি কাজ ছেড়ে শুধরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিলেন শমীক ভট্টাচার্য

হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে বাংলাদেশী রোগীর চাপ

একই ছবি পিয়ারলেস হাসপাতালেও, আগে যেখানে দিনে ১৫০ জন বাংলাদেশি বহির্বিভাগ রোগী আসতেন। ২০২৪ এর জুনের পর সেটা ১০ জনের নিচে নেমে গিয়েছিল। এখন ফের দৈনিক প্রায় ৬০ জন রোগী আসছেন। এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সিইও সুদীপ্ত মিত্র। একইভাবে মণিপাল হাসপাতালের পূর্বাঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক অয়নাভ দেবগুপ্ত জানান, রোগীর সংখ্যায় দ্রুত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে এবং আগামী দুই সপ্তাহে আরও ২৫-৩০ শতাংশ বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, অস্থিরতার আগে অনেক বেসরকারি হাসপাতালের আয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ আসত বাংলাদেশি রোগীদের থেকে। এখনও পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি, তবু দুই বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে ইতিবাচক সংকেত। কার্ডিয়াক, ক্যানসারসহ উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার হাসপাতালগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশের রোগীদের গন্তব্য। ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে চিকিৎসা পর্যটন আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষরা।