বাংলা হান্ট ডেস্কঃ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর চাকরি না পাওয়ার ঘটনা রাজ্যে নতুন নয়। কিন্তু তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেও পাঁচ বছর ধরে নিয়োগপত্র না পাওয়া এই অভিযোগ কার্যত নাড়িয়ে দিয়েছে শিক্ষামহলকে। এই নিয়ে সম্প্রতি স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর প্রশ্ন। হাওড়ার এক প্রার্থীর মামলায় এবার সরাসরি জবাব তলব করল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)।
কমিশনের কাছে রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের (Calcutta High Court)
২০২১ সালের এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষার সফল প্রার্থীদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন হাওড়ার বাসিন্দা রানি সোনা। কিন্তু তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও পাঁচ বছর কেটে গেলেও এখনও তিনি নিয়োগপত্র পাননি। এই ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন ওই প্রার্থী। মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ কেন এতদিনেও ওই প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তার যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে হবে বোর্ডকে।
মামলার নথি অনুযায়ী, রানি সোনা সাঁওতালি মিডিয়াম থেকে পরীক্ষায় বসে কৃতিত্বের সঙ্গে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর দ্রুত নিয়োগ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা, নাকি অন্য কোনও কারণে নিয়োগ আটকে রয়েছে, তা নিয়েই উঠেছে বড় প্রশ্ন।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা মামলার শুনানিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুধুমাত্র প্রশাসনিক গাফিলতির অজুহাতে কোনও যোগ্য প্রার্থীকে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা যায় না। আদালত বোর্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলায় যুক্ত করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এই মামলার শুনানির মধ্যেই সামনে এসেছে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষক স্কুলের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছর ১৬ জুলাই স্কুলের মধ্যেই তাঁকে মারধর করা হয়। ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তার অভাবে তিনি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুনঃ ফেব্রুয়ারিতে স্কুলে টানা ছুটি? উচ্চ মাধ্যমিকের নতুন গাইডলাইন ঘিরে চর্চা
এই অভিযোগ শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি। আদালত (Calcutta High Court) নির্দেশ দিয়েছে, কাঁথি মহকুমার অতিরিক্ত স্কুল পরিদর্শককে হামলার ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ বুধবার থেকেই ওই শিক্ষক আগের মতো স্কুলে যোগ দিতে পারবেন। তিনি যোগদানের পর কোনও সমস্যা বা বাধা তৈরি হচ্ছে কি না, সেই বিষয়েও স্কুল কর্তৃপক্ষকে আদালতে রিপোর্ট দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে আগামী ১০ মার্চ।

















