বাংলা হান্ট ডেস্ক:কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার মনোজ বার্মার (Manoj Verma) পুত্র এবার সাইবার প্রতারণার (Cyber Crime) শিকার হলেন। অনলাইনে টাকা লেনদেন করতে গিয়ে তিনি প্রতারিত হন। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে। ছয় দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে ব্যাঙ্কশাল আদালত।
মনোজ বার্মার (Manoj Verma) পুত্র সাইবার প্রতারণার শিকার:
প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মার পুত্র দিল্লিতে পেয়িংগেস্ট হিসেবে থাকার জন্য ঘর ভাড়া করতে চেয়েছিলেন, আর সেখানেই তিনি প্রতারিত হন। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ হাজার টাকা কেটে যায় আর সেই টাকা তিনি কোনোও ভাবেই উদ্ধার করতে পারেননি। ঘটনার তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। ৩০ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছিল, সেই সূত্র ধরে অভিযুক্ত রাকেশ প্রধানকে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করে করা হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ওই যুবক। আজ ব্যাঙ্কশাল কোর্টে এই মামলার শুনানি ছিল।
এই কেসের শুনানি কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হচ্ছে আর সেটা নিয়েই অভিযুক্তের আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি অভিযোগকারীর বাবার ক্ষমতা নিয়েও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এই মামলায়। অভিযুক্তের আইনজীবীর বক্তব্য, দিল্লিতে অভিযুক্ত প্রতারণার শিকার হয়েছেন আর অভিযোগ করা হয়েছে কলকাতায়। নিয়ম মেনে দিল্লিতে অভিযোগ কেন দায়ের করা হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অভিযুক্তের আইনজীবী।
আরও পড়ুন:পুলিশ নিয়োগে কাটল জট! লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের
তবে ধৃত যুবকের অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালত পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেছে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অবধি পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ধৃত এই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রতারণা চক্রের হদিশ পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:এভাবে রান্না করলে পাঙ্গাশ মাছের স্বাদ মুখে লেগে থাকবে! জেনে নিন বানানোর বিশেষ কৌশল

মনোজ বর্মা পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যখন আরজিকরের ধর্ষণ খুনের ঘটনা ঘটেছিল, সেই সময়। বিনীত গোয়েল ছিলেন সেই সময় পুলিশ কমিশনার। তার বিরুদ্ধে অনেকেই ক্ষুব্ধ ছিল, জুনিয়র ডাক্তাররা তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বিনীত গোয়েলকে সরিয়ে মনোজ বর্মাকে পুলিশ কমিশনার হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন। এরপর ২০২৬-এর জানুয়ারি মাসে লালবাজারের শীর্ষ পদে আবার আনা হয়েছে সুপ্রতিম সরকারকে। এখন দেখা যাক এই ঘটনার তদন্ত করে কলকাতা পুলিশ সাইবার জালিয়াতের ক্ষেত্রে আর কোনও তথ্য উদ্ধার করতে পারে কিনা। এই প্রতারণার অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে হয়ত আরও অনেক ঘটনা সামনে আসতে পারে যা সাইবার অপরাধের তদন্তে নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা করা যায়।

















