বাংলাহান্ট ডেস্ক: মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস -এর সাম্প্রতিক পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে শহরাঞ্চলে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের বেকারত্বের হার (Unemployment Rate) কমে ৬.৭ শতাংশে নেমেছে। আগের জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে এই হার ছিল ৬.৯ শতাংশ। একই সময়ে গ্রামাঞ্চলেও বেকারত্বের হার হ্রাস পেয়েছে—৪.৪ শতাংশ থেকে কমে ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ায় এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
ভারতে কমছে বেকারত্বের হার (Unemployment Rate)! সামনে এল সরকারি পরিসংখ্যান
শহরাঞ্চলে বেকারত্ব কমার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পুরুষদের মধ্যে বেকারত্বের হার হ্রাস, যা আগের ত্রৈমাসিকে ৬.২ শতাংশ থাকলেও এবার কমে ৫.৯ শতাংশ হয়েছে। গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রেই স্ব-কর্মসংস্থানের প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। গ্রামাঞ্চলে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে স্ব-কর্মসংস্থানকারীর অনুপাত বেড়ে ৬৩.২ শতাংশ হয়েছে, যা আগের ত্রৈমাসিকে ছিল ৬২.৮ শতাংশ। শহরাঞ্চলেও একই সময়ে এই হার ৩৯.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৯.৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: ফের প্রশ্নের মুখে SSC, বোর্ডের কাছ থেকে জবাব তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট, কোন মামলায়?
খাতভিত্তিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকায় কৃষিখাতে কর্মরত মানুষের অনুপাত বেড়ে ৫৮.৫ শতাংশ হয়েছে, যা আগের ত্রৈমাসিকে ছিল ৫৭.৭ শতাংশ। শহরাঞ্চলে তৃতীয় বা পরিষেবা খাতে কর্মসংস্থান স্থিতিশীল থেকে ৬১.৯ শতাংশে রয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের জনসংখ্যা প্রক্ষেপণের ভিত্তিতে এনএসও জানিয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ ত্রৈমাসিকে দেশে গড়ে ৫৬২ মিলিয়ন মানুষ কর্মরত ছিলেন। অক্টোবর-ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৫৭৪ মিলিয়নে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ৪০২ মিলিয়ন পুরুষ ও ১৭২ মিলিয়ন মহিলা।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সংশোধিত পদ্ধতিতে গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলের জন্য মাসিক ও ত্রৈমাসিক শ্রমবাজার সূচক প্রকাশ শুরু হয়েছে। এপ্রিল-জুন ২০২৫ ছিল এই ধারাবাহিকের প্রথম বুলেটিন এবং বর্তমান অক্টোবর-ডিসেম্বর রিপোর্টটি তৃতীয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিক শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের হার বেড়ে ৫৫.৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের ত্রৈমাসিকে ছিল ৫৫.১ শতাংশ। গ্রামীণ এলাকায় এলএফপিআর বেড়ে ৫৮.৪ শতাংশ হয়েছে, যদিও শহরাঞ্চলে তা প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় বিয়ে মামলায় আপাতত স্বস্তি, তবে… হিরণকে কী নির্দেশ দিল হাইকোর্ট?
নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। অক্টোবর-ডিসেম্বরে নারীদের এলএফপিআর বেড়ে ৩৪.৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের ত্রৈমাসিকে ছিল ৩৩.৭ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৩৯.৪ শতাংশ হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মী জনসংখ্যা অনুপাত বেড়ে ৫৩.১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা আগের ত্রৈমাসিকে ছিল ৫২.২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান শ্রমবাজারে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ও নারীর বাড়তি অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

















