বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সব কিছু ঠিক থাকলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হতে চলেছেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। গণনা এখনও শেষ হয়নি, তবে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রায় নিশ্চিত বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এই প্রেক্ষাপটে বিদেশ থেকেও আসতে শুরু করেছে শুভেচ্ছাবার্তা। বিশেষ করে পাকিস্তান ও চিনের তরফে অভিনন্দন জানানো হয়েছে বিএনপি নেতৃত্বকে।
বাংলাদেশে (Bangladesh) বিএনপির জয়ে শুভেচ্ছাবার্তা চিন ও পাকিস্তানের
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ সমাজমাধ্যমে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে অসাধারণ জয়ের জন্য তিনি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের জনগণকেও অভিনন্দন জানান তিনি। শাহবাজ় আরও বলেন, বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে পাকিস্তান আগ্রহী। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতি ও উন্নয়নকে যৌথ লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন পাক প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: জীবিত হয়েও খসড়া তালিকায় ‘মৃত’ বলে উল্লেখ, আদৌ ভোট দিতে পারবেন তিনি? কী জানাল কমিশন?
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জ়ারদারি-ও তারেক রহমানকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে পাকিস্তান সমর্থন করে এবং বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। দীর্ঘ দিন পর ঢাকা-করাচি রুটে বিমান পরিষেবা চালু হওয়া এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ঢাকায় অবস্থিত চিনা দূতাবাসও এক বিবৃতিতে বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা জানায়, অবাধ ও সফল নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন এবং জয়ী দলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। চিন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনায় আগ্রহী বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের ময়দান থেকে দূরে! তবুও বাংলাদেশে দাপট শেখ হাসিনার, পরিসংখ্যানেই হল স্পষ্ট
এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি। মহম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-ও বাংলায় সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং একসঙ্গে কাজের বার্তা দিয়েছেন। রাজনৈতিক পালাবদলের এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হতে চলেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

















