বাংলাহান্ট ডেস্ক: টলিপাড়ায় নেমে এল শোকের ছায়া! মাত্র ৪৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন রাহুল ব্যানার্জী (Rahul Bannerjee)। স্টার জলসার বিখ্যাত ধারাবাহিক ভোলে বাবা পার করেগা-র শুটিং করতে দীঘায় গিয়েছিলেন রাহুল। সেই ধারাবাহিকের শুটিং শেষেই তালসারীর জলে নেমে তিনি তলিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে। সেটে উপস্থিত টেকনিশিয়ানরা তাকে তলিয়ে যেতে দেখে তৎক্ষণাৎ তাকে জল থেকে উদ্ধার করে, দীঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অভিনেতা রাহুলের (Rahul Bannerjee) অকাল প্রয়াণে শোকপ্রকাশ রুদ্রনীল ঘোষের
মর্মান্তিক এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমত হইচই পড়ে যায় গোটা অভিনয় জগতে। তাঁর এইভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে বেশ খানিকটা কষ্ট হচ্ছে সকলেরই। শুধুমাত্র অভিনয় জগতেই নয় রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তিনি যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন। তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষ এক্সক্লুসিভলি বাংলা হান্টকে তার প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি জানান তাদের দুজনের রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও অভিনয় জগতে আসার বহু আগে থেকেই ভীষণই ভালো সম্পর্ক ছিল তাঁদের দুজনের মধ্যে।
আরও পড়ুন: তালসারিতে শুটিংয়ে গিয়ে তলিয়ে যান সমুদ্রে! প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়
২০০৮ সালে অভিনীত চিরদিনই তুমি যে আমার ছবি থেকে তাঁর পরিচিতি। সেই একই ছবিতে অভিনয় করেন রুদ্রনীল। তিনি বলেন, চিরদিনই তুমি যে আমার ছবির বহু আগে থেকেই তাঁদের পরিচয়। তিনি জানান, যে সময় তিনি লেখালেখি করতেন অভিনয় নিয়ে চর্চা করতেন সেসময় তাঁর বাধ্য ছাত্রের মতো ছিলেন। তিনি আরও বলেন, রাহুল তাঁর সহ অভিনেতার থেকেও ঊর্ধ্বে অনেক কিছু ছিলেন।
রাহুলের ব্যাক্তিত্ব নিয়ে বলতে গিয়ে রুদ্রনীল তাঁর ডাক নাম উল্লেখ করে বলেন, “বাবিনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব ছিল, কোনোদিনই কোনও হাতছানি, কোনও প্রলোভন বা বেশি প্রাপ্তি তাঁকে গ্রাস করতে পারেনি। সবসময় যুক্তিসঙ্গত ভাবে নিজস্ব মতামতে অটুট থেকেছে। কিন্তু অন্য যেকোনও মতামত সে যতই বিরোধী মনোভাবের হোক না কেন তাঁকেও কোনোভাবে অশ্রদ্ধা করত না। চিরকাল ওকে কেউ কিনতে পারেনি, কোনও প্রলোভন ওকে টলাতে পারেনি। ওর এভাবে চলে যাওয়াটা আমি সত্যিই এখনও বিশ্বাস করতে পারছিনা।”

আরও পড়ুন: হয়ে যান সতর্ক! আগামী সপ্তাহে একাধিক দিন বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক, দুর্ভোগ এড়াতে জানুন ছুটির তালিকা
রাহুলের (Rahul Bannerjee) মৃত্যুতে ইতিমধ্যেই শোকপ্রকাশ করেছেন, গোটা অভিনয় জগৎ। শুধু অভিনয় জগৎই নয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তাঁর অনুরাগীরা তাঁর এভাবে চলে যাওয়াটাকে মেনে নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই শোকবার্তা জ্ঞাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখেন, “আমি হতচকিত, মর্মাহত ও শোকাহত। কি করে যে কি হয়ে গেল আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। সে আমার খুব পছন্দের অভিনেতা ও মানুষ ছিল। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।” রাহুল ব্যানার্জির এই অকাল মৃত্যু সাহিত্য ও অভিনয় জগতে এক অভাবনীয় অপূরণীয় ক্ষতি।













