কলেজ শিক্ষকদের ভোটকাজে টানতে গিয়ে বিপাকে কমিশন, হাইকোর্টে ধাক্কা

Updated on:

Updated on:

Commission in trouble for including college teachers in elections, hearing in Calcutta High Court
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনকে (Assembly Election) ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতির মাঝেই বড় ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক বা শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। আগে এই মামলার শুনানির সময়ই বিজ্ঞপ্তি জারির যথাযথ কারণ ব্যাখ্যা করতে না পারায় আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে।

কমিশনের বিজ্ঞপ্তি খারিজ হাইকোর্টের (Calcutta High Court)

শুক্রবারের শুনানিতে কমিশনের ওই বিজ্ঞপ্তি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানান, সহকারী অধ্যাপকদের দায়িত্ব ও বেতন কাঠামোর বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই তাঁদের ভোটের কাজে নিয়োগ করা উচিত। কিন্তু কেন তাঁদের বুথের কাজে পাঠানো হচ্ছে, সে বিষয়ে কমিশনের কাছে একাধিকবার ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তারা উত্তর দিতে পারেনি। সেই কারণেই বিজ্ঞপ্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় আদালত।

কমিশনের নির্দেশের বিরোধিতা করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কলেজ শিক্ষিকা রূপা বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলার শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী অনামিকা পান্ডে বলেছিলেন, “২০২৩ সালে নতুন নির্দেশিকা চালু করা হয়েছে। নির্বাচনী আইনের ২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই কাজে নিয়োগ করতে পারেন।”

কমিশনের এই বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি রাও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “এই ধারা অনুযায়ী বিচারক ও বিচারপতিদেরও ভোটের কাজে নিযুক্ত করুক কমিশন! এটা মজার ব্যাপার নয়। প্রতিবারই কমিশন নিজেদের নির্দেশিকা বদল করছে। কিন্তু কোনও স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে না!”

Commission in trouble for including college teachers in elections, hearing in Calcutta High Court

আরও পড়ুন :শুধু ১৫০০ টাকা নয়, যুবসাথীতে দেওয়া হবে চাকরিও? বড় ঘোষণা মমতার

ওই শিক্ষিকার আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, কলেজ শিক্ষকদের এই দায়িত্ব না দিয়ে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের যেসব কর্মীরা নির্বাচনী কাজে যুক্ত থাকেন, তাঁদেরই প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হোক। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোটের আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। এই অবস্থায় আদালতের হস্তক্ষেপে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে সেই যুক্তি শেষপর্যন্ত গ্রহণ করেনি হাইকোর্ট। আদালতের এই রায়ে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে কমিশনকে নতুন করে ভাবতে হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।