বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোট শান্তিপূর্ণ করতে ভোটের তিন দিন আগে থেকে বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের (Election Commission Of India) এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। জল গড়ায় আদালতে। এর আগেই কমিশনের পদক্ষেপে কড়া সমালোচনা করেছিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। এবার নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
ক্ষমতা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য জরুরি: হাইকোর্ট | Calcutta High Court
বাইক সংক্রান্ত কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আগে একাধিক প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। জানিয়ে দেয়, যুক্তি ছাড়া এভাবে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা দেওয়া যায় না। শুক্রবার হাইকোর্ট জানিয়েছে, বাইক র্যালি নিষিদ্ধ থাকবে। ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাত্রী নিয়ে যাওয়া যাবে না। তবে ভোটের দিন ভোট দিতে পরিবার নিয়ে বাইকে করে যাওয়া যাবে।
একইসাথে অ্যাপ-নির্ভর বাইকের চালক, গিগ-কর্মী এবং অফিসগামী ব্যক্তিদের ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগেও বাইক নিয়ে চলাচলে ছাড় দিয়েছে হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইডি কার্ড দেখিয়ে চলাচলে অনুমতি। এদিন পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট জানায়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আছে ঠিকই কিন্তু সেই ক্ষমতা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবহার করতে হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও আইন বা সাধারণ কার্যবিধি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর)-তে বাইক চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করার কথা নেই। পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা যুক্তিযুক্ত নয় বলে জানায় হাইকোর্ট। বিচারপতি রাও বলেন, ‘‘আইন এবং বাস্তবতার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। শুধুমাত্র সম্ভাব্য অপরাধের আশঙ্কায় সাধারণ নাগরিকের অধিকার খর্ব করা যায় না।”

আরও পড়ুন: প্রথম দফার ভোটে ৪০ হাজারেরও বেশি বুথে কোথাও পুনর্নির্বাচন নয়, জানাল নির্বাচন কমিশন
বিচারপতি মনে করান, “নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা করাও সমান জরুরি। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রশাসনের আসল চ্যালেঞ্জ।’’ উল্লেখ্য, এর আগে এই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন, “অযৌক্তিকভাবে সব কিছু থামিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।” কমিশন দ্বারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাগরিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন বিচারপতি।













