বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গত ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন ভোট চলাকালীন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাট পশ্চিমের কয়েকটি বুথে অশান্তি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। শনিবার সকাল থেকেই ওই বুথগুলিতে ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট চলছে। তবে দিনের মধ্যে মগরাহাটে সাময়িক উত্তেজনার ঘটনাও সামনে এসেছে।
দুপুরে ৫৫ শতাংশ পেরোল পুনর্নির্বাচন ভোট (West Bengal Assembly Election 2026)
শনিবার সকাল ৭টা থেকে ডায়মন্ড হারবারের ৪টি এবং মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি বুথে পুনর্নির্বাচন শুরু হয়। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। দ্বিতীয় দফার ভোটের সময় বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সকালের দিকেই বুথের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেকেই জানান, তাঁরা দু’দিন আগেই ভোট দিয়েছিলেন। পরে সেই ভোট বাতিল হয়ে যাওয়ায় আবার বুথে আসতে হয়েছে। বিএলও-রা শুক্রবার রাতেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুনর্নির্বাচনের খবর দেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা (West Bengal Assembly Election 2026)।
বিকেল ৪টা পর্যন্ত পুনর্নির্বাচনে মোট ভোট পড়ে ৭২.৪৩ শতাংশ। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে মগরাহাট পশ্চিমে ৭২.৫০ শতাংশ এবং ডায়মন্ড হারবারে ৭২.৩৬ শতাংশ ভোট পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুথগুলিতে ভিড়ও বাড়তে থাকে। বেলা ১১টা পর্যন্ত মোট ভোটের হার পৌঁছে ছিল প্রায় ৩৭ শতাংশে। কমিশনের হিসাবে তখন ভোট পড়েছিল ৩৬.৯৯ শতাংশ। মগরাহাট পশ্চিমে ভোটের হার ছিল ৩৮.২ শতাংশ এবং ডায়মন্ড হারবারে ৩৫.৯২ শতাংশ। এদিন বুথগুলির বাইরে কড়া নজরদারিতে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ। কোথাও জমায়েত করতে দেওয়া হয়নি। এলাকায় টহলও চালান জওয়ানেরা।
সকাল থেকে বড় কোনও গোলমালের খবর না এলেও পরে মগরাহাটের ইয়ারপুর এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী গৌর সুন্দর ঘোষকে দেখে তৃণমূল সমর্থকদের একাংশ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। তা নিয়েই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি প্রার্থী।
পুনর্নির্বাচন হওয়া বুথগুলির তালিকাও আগেই প্রকাশ করেছিল কমিশন। মগরাহাট পশ্চিমের ৪৬, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৪২, ২১৪, ২১৫, ২১৬, ২৩০, ২৩১ ও ২৩২ নম্বর বুথে এবং ডায়মন্ড হারবারের ১১৭, ১৭৯, ১৯৪ ও ২৪৩ নম্বর বুথে ফের ভোট নেওয়া হচ্ছে। এদিকে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেও একাধিক বুথে গোলমালের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত স্ক্রুটিনির জন্য গিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়েছে। বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও ফলতায় পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। যদিও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি কমিশন।
দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর সামনে এসেছিল। ফলতার একটি বুথে বিজেপি ও সিপিএমের বোতামে টেপ লাগানো ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। উদয়নারায়ণপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানের বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। পরে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। সেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখেই কমিশন পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়।

আগামী ৪ মে ভোটগণনা হবে। এবার গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে ৭৭ করা হয়েছে। ২৯৪টি আসনের ভোট ওই কেন্দ্রগুলিতেই গণনা হবে। তার আগে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ইভিএম রাখা কেন্দ্রগুলিতে সিসি ক্যামেরার কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে (West Bengal Assembly Election 2026)।













